ব্যতিক্রম ধারার গেম : ফারক্রাই প্রাইমাল


ফারক্রাই প্রাইমালের মতো ব্যতিক্রমী ধারার গেম আগে কখনো বেরিয়েছে কি না সন্দেহ। প্রচলিত সব ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে ইউবিসফটের এই গেমটি। গেমটির প্রেক্ষাপট পাথর যুগের। প্রায় ১২ হাজার বছর আগের কাহিনি- মানবসভ্যতা যখন কেবল আগুনের ব্যবহার করতে শিখেছে।

প্লে স্টেশন ৪, এক্স বক্স ১ এবং মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জন্য মুক্তি পাওয়া গেমটি ফারক্রাই সিরিজের পঞ্চম গেম। ফারক্রাই প্রাইমালের গেমপ্লে সিরিজের বাকি গেমগুলো থেকে একেবারে আলাদা।

অন্যান্য গেম যেখানে ফার্স্ট পারসন ওপেন ওয়ার্ল্ড ঘরানার, ফারক্রাই প্রাইমাল সেখানে অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার গেম। শুধু তাই নয়, সিরিজের বাকি গেমগুলোর মতো গেমার এখানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। যাতায়াতের জন্য গাড়িও ব্যবহার করতে পারবেন না। মারামারির সম্বল বলতে আছে কুঠার, লাঠি, গাছের ডাল। আরো আছে তীর ধনুক এবং গুলতি।

inner

শুধু কি তাই, গেমার যেকোনো প্রাণীর পিঠে চড়ে গেমের বিস্তৃত ওপেন ওয়ার্ল্ডে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। শত্রু হিসেবে মানুষ তো আছেই, সাথে আরো আছে হিংস্র বন্য পশু। তবে গেমটির সবচেয়ে মজার ফিচারটি এই বন্য পশুকে ঘিরেই। গেমার বন্য পশুকে পোষ মানাতে পারবেন। পোষ মানিয়ে নিজের কাজে কমান্ড করতে পারবেন।

কখনো কখনো শত্রুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বন্য পশুকে ব্যবহার করতে পারবেন। আবার বড় ও হিংস্র পশু ব্যবহার করে শত্রুদের মেরেও ফেলা যাবে। তবে এ ধরনের পশুদের পোষ মানানোর জন্য গেমারকে নিজের স্কিল বাড়াতে হবে। সিরিজের বাকি গেমগুলোতে শত্রুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করা যেত। আদিম যুগের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য স্বাভাবিকভাবেই সেই ফিচার বাদ দেয়া হয়েছে। ক্যামেরার পরিবর্তে গেমার নিজের পোষা পেঁচা ব্যবহার করতে পারবেন। পেঁচার দৃষ্টি দিয়ে গেমার শত্রুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তো পারবেনই, সাথে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসও হাইলাইট করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এই ক্ষমতা আপগ্রেডও করা যায়। আপগ্রেডের ফলে পোষা পাখিটা বোম নিয়ে শত্রুদের উপর ফেলতে পারবে, ডাইভ দিয়ে শত্রুকে মেরে ফেলতে পারবে।

গেমটি খেলার জন্য যা যা প্রয়োজন:

অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ৭, ৮.১, ১০( শুধুমাত্র ৬৪ বিট)
প্রসেসর: কোর আই থ্রি ৫৫০/ ফেনোম ২ ৯৫৫
র‌্যাম: ৪ গিগাবাইট
গ্রাফিক্স কার্ড: এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৪৬০ অথবা এএমডি রেডিয়ন এইচডি ৫৭৭০ (১ জিবি ভার্চুয়াল র‌্যাম)
হার্ডডিস্ক: ২০ গিগাবাইট খালি জায়গা

বর্তমানের ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলোর তুলনায় ফারক্রাই প্রাইমালের হার্ডওয়্যার রিকয়্যারমেন্ট বেশ সহজলভ্যই। এর জন্য একেবারে অসাধারণ মানের গ্রাফিক্স কার্ড কিংবা প্রসেসরের প্রয়োজন পড়ে না। ইদানিং ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলো হার্ডডিস্কে ৪০- ৫০ গিগাবাইট জায়গা দখল করছে। সেখানে ফারক্রাই প্রাইমালের জন্য প্রয়োজন হবে শুধু ২০ গিগাবাইটের। গেমটির অনন্য ফিচারের মধ্যে আরেকটি হলো এর ভাষা। প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে গেমটির ভয়েস ল্যাংগুয়েজে আদিম প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য প্রকাশক ইউবিসফট ভাষাবিদদেরও সাহায্য নিয়েছে। তাই গেমের কাহিনী বুঝতে হলে সাবটাইটেলের সাহায্য নিতে হবে।

প্রেক্ষাপট, চরিত্র, গেমপ্লে সব দিক দিয়েই সিরিজের বাকি গেমগুলোর চেয়ে ফারক্রাই প্রাইমাল আলাদা। তবে সাইড মিশনের ক্ষেত্রে ফারক্রাই ৪ এর সাথে কিছুটা মিল পাওয়া যায়। মেইন মিশনের পাশাপাশি গেমার সাইড মিশন খেলতে পারবেন। এছাড়াও অবসর কাটানোর জন্য আছে নানা রকম অ্যাকটিভিটি। গেমার আউটপোস্ট দখল করতে পারবেন। একেকটা আউটপোস্ট দখল করার পর সেগুলো ফাস্ট ট্রাভেল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। স্বজাতিদের সাথে মারামারি করাটা একঘেয়ে লাগলে গেমার পশু শিকার করতে পারবেন। বেশিরভাগ অ্যাসাসিনস ক্রিড আর ফারক্রাই গেমেই পশু শিকার করা যায়। তাদের ধরণটাও একই। কিন্তু এই গেমে পশুপাখির ধরণও আলাদা, শিকার করার কায়দাও ভিন্ন। অন্য গেমের মতো এখানে বন্দুকের কয়েকটা গুলিতেই শিকার মাটিতে লুটিয়ে পড়বে না। তীর ধনুক আর কুঠার নিয়ে রীতিমতো শিকারের সাথে লড়তে হবে।

বইয়ের পাতায় পড়া আদিম মানুষের শিকার কাহিনি গেমার নিজে অনুভব করতে পারবেন। আর বিচিত্র সব জীবের কথা তো তোলাই থাকলো। সেগুলোর বেশিরভাগ প্রাণীই এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আদিযুগের অতিকায় লোমশ হাতি ম্যামথ শিকারের স্বাদ এর আগে অন্য কোনো গেমে পাওয়া যায়নি।

inner2

প্রচুর কনটেন্টসহ ওপেন ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি ভালো কাহিনি উপহার দেয়াও ফারক্রাই সিরিজের বৈশিষ্ট্য। প্রাইমাল এদিক দিয়েও মান রেখেছে। বিচিত্র সব চরিত্রের পাশাপাশি অসাধারণ কাহিনীর সংমিশ্রণ ঘটেছে গেমটিতে। ওপেন ওয়ার্ল্ড এবং অসাধারণ গেমপ্লে আর গ্রাফিক্সের মিশেলের গেমটি সত্যিই উপভোগ্য। গেমাররা এখনই বসে পড়তে পারেন কম্পিউটারের সামনে, উপভোগ করতে পারেন আদিম মানুষের জীবনধারা।

শাহেদ উন নবী
অষ্টম শ্রেণি, গ শাখা
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ঢাকা

ইমেইল : shahedunnabi003@gmail.com

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক