বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮ লোকাল মার্কেটের সক্ষমতায় হবে-সোহেল

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮’র আহবায়ক, বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল,
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর আয়োজনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুরু হতে যাচ্ছে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের জনপ্রিয় প্রদর্শনী ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮’। ডিজাইনিং দ্য ফিউচার স্লোগান নিয়ে আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি চার দিনব্যাপী চলবে এই মেলা।

তথ্যপ্রযুক্তির বৃহত্তম এই প্রদর্শনী আয়োজন নিয়ে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮’র আহবায়ক বেসিস পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল সি নিউজকে বলেন, বেসিস সফটএক্সপো আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য- দেশের সফটওয়্যার ও আইটি এনাবলড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানসমূহের দক্ষতা সকলের সামনে তুলে ধরা। আমরা এ মেলার মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি, ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি সহ সবাইকে জানাতে চাই যে, আমাদের দেশিয় সফটওয়্যার ও আইটি এনাবলড সেবা অর্থাৎ আমাদের লোকাল মার্কেটের সক্ষমতা অনেক বেশি। তাই বিদেশি সফটওয়্যারের নির্ভরতার পরিবর্তে লোকাল মার্কেট যেন আরো বেশি প্রাধান্য পায় সেজন্যই এ মেলার আয়োজন। আমাদের দেশের বেশ কিছু আইটি প্রতিষ্ঠান ভুটান, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে সেবা দিচ্ছে। সফটএক্সপোর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সেবাগ্রহীতাদের কাছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরাটাই এ মেলার মূল আকর্ষণ।


সফটএক্সপোতে এবার প্রায় দুইশো দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। প্রদর্শনী এলাকাকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রয়েছে সফটওয়্যার সেবা প্রদর্শনী জোন, উদ্ভাবনী মোবাইল সেবা জোন, ডিজিটাল কমার্স জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন এবং ক্লাউড কম্পিউটিং জোন। থাকবে ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার, যেখানে বক্তব্য রাখবেন এক শতাধিক দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। উদাহারণস্বরূপ বলবো, মেশিন লার্নিং নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব প্রফেসর অ্যালেন বক্তব্য রাখবেন সফটএক্সপোতে।

সফটএক্সপোতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যে থাকছে বি-টু-বি ম্যাচমেকিং সেশন। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার প্রসার খুব সহজেই করতে পারবে। পাশাপাশি থাকবে আইটি জব ফেয়ার জোন, যেখান থেকে দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ থাকছে।

এছাড়া আমরা চাচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এ মেলার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি, সরকার, একাডেমি এবং নীতিনির্ধারক সবার আলোচনার প্রেক্ষিতে একটা মানসম্পন্ন পলিসি ডেভেলপ করতে, সেখানে সুনির্দিষ্ট একটা নীতি থাকবে সেটা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাবো।

সফটএক্সপোর মাধ্যমে দেশিয় আইটি প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেদের সেবা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার সুযোগ যেমন পাবে, পাশাপাশি বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের সদস্যরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি আইটি খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবে। আমাদের তরুণ সমাজ যারা পড়ালেখা শেষ করেছে বা পড়ালেখা করছে তাদের জানাতে হবে বাংলাদেশে আইটি ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় এবং তারা যেন ক্যারিয়ার হিসেবে আইটিকে বেছে নেয়। এজন্য আমরা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্টিভেশন কর্মশালা করছি।

এ মেলার মাধ্যমে তরুণরা আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়ায় আগ্রহী হবে। ২০০২ সাল থেকে বেসিস সফটএক্সপো নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে। আমাদের এই মেলা আমরা নিজেরা আয়োজন করি। এক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য বা পরোক্ষ ভাবে কোনো সাহায্য লাগে না। মেলার ফান্ড সোর্স হচ্ছে- স্টল যারা কিনছে তাদের মাধ্যমে এবং আমাদের সদস্য কোম্পানি ও স্পন্সর কোম্পানি। আমি এবার সফটএক্সপো’র আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সফটএক্সপো’র সফলতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আহবায়কের ভূমিকায় যেই থাকুন না কেন, দায়িত্ব পালন খুব সহজ হয় কারণ বেসিসের দলীয় কার্যক্রমটা খুবই শক্তিশালী। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের নিজেদের ভেতরে বোঝাপড়াটা খুব ভালো। ফলে সবার ঐক্যবত্য প্রচেষ্টায় সফটএক্সপো আয়োজনে এবারও আমরা সফল হবো।

– গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.