বেসিস সফটএক্সপো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণদের কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বেসিস সফটএক্সপো- ২০২০ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব এখন এগিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার ট্রান্সফর্মিং লাইফ থ্রু ইনোভেশন-স্লোগানে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী ১৬তম বেসিস সফটএক্সপো- ২০২০ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি (অর্থ) ও বেসিস সফটএক্সপোর আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান এবং বেসিস সফটএক্সপোর প্লাটিনাম স্পন্সর ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। আমাদের তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ তারাই আমাদের সম্পদ। আমাদের মেধাবী তরুণরা বাইরে কাজ করছে, যথাযথ সুযোগ তৈরি করতে পারলে এরা দেশেই কাজ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সফটওয়্যার, অর্থাৎ মেইড ইন বাংলাদেশ ধারণাকে উৎসাহিত করতে হবে। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে দাতা সংস্থার সহায়তার বাস্তবায়িত প্রকল্পে স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে সুযোগ দিতে হবে।একই সঙ্গে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি ছোট বড় প্রকল্পে সুযোগ দিতে হবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বেসিসের এই আয়োজন সরকারের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরির কাজে এগিয়ে যাবে। দেশে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ছে আর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। বর্তমানে দেশের ৯৬% পরিবারে মোবাইল ব্যবহার করছে। বাঙালিরা মেধাবী, বিশ্বের দরবারে তারা তাদের মেধার পরিচয় রেখেছে।

বেসিসের সভাপতি আলমাস কবীর বলেন, দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে-বিদেশে অনেক বড়ো বড়ো প্রকল্পে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। সেজন্য দেশের সকল কাজ বিদেশিদের দিয়ে করা গেলেও তা স্থানীয় কোম্পানিদের দিয়েই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। এজন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

বেসিস সফটএক্সপোর আহ্বায়ক এবং বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রদর্শনী এলাকাকে দশটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ জোন এবং এক্সপেরিয়েন্স জোন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরবে। রয়েছে ভ্যাট জোন, ডিজিটাল এডুকেশন জোন, ফিনটেক জোন, উইমেন জোন এবং বরাবরের মতো রয়েছে সফটওয়্যার সেবা প্রদর্শনী জোন, উদ্ভাবনী মোবাইল সেবা জোন, ডিজিটাল কমার্স জোন, আইটিইএস ও বিপিও জোন। থাকবে ৩০টিরও বেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সেমিনার, যেখানে বক্তব্য রাখবেন শতাধিক দেশি-বিদেশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

এবারের বেসিস সফটএক্সপোতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজেদের খুব সহজেই ব্যবসার প্রসার করতে পারবেন। এ বছর সুইডেন, জাপান, নেদারল্যান্ডস থেকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশনে অংশ নেবে।

পাশাপাশি অন্য খাত থেকে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সফলভাবে বিটুবি সেশন সম্পন্ন করা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানকে বেসিস টপ টেন ডিজিটাল-রেডি কোম্পানিকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প। রয়েছে ৪৫টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইনোভেটিভ প্রজেক্ট শো-কেসিং, যাদের মধ্যে প্রথম তিনটি ইনোভেটিভ প্রজেক্টকে পুরস্কৃত করা হবে। থাকছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আউটসোর্সিং কনফারেন্স। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সিএক্সও লিডারশিপ মিট। পাশাপাশি থাকছে মিউজিক্যাল কনসার্টও।

সিনিউজভয়েসজিডিটি/০৭ফেব্রু/২০

 

Please Share This Post.