বিসিএস মেলা প্রযুক্তিতে খুলনাকে সমৃদ্ধ করেছে

ডিজিটাল বাংলাদেশ মানেই হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা , কার্যকর গণতন্ত্র, জনগণের ক্ষমতায়ন ও সাফল্য। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতিতে রাজধানী আর খুলনায় কোন পার্থক্য নেই। যত বেশি তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত মেলা হবে, ততবেশি খুলনার জনগণ প্রযুক্তি বান্ধব হবে। বিসিএস ডিজিটাল এক্সপোতে মানুষ নিত্যনতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। প্রযুক্তি পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও মিলে নানাবিধ ছাড়। ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া প্রযুক্তির সুফল ভোগ করা অসম্ভব।

১৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) খুলনার হোটেল সিটি ইন এর সিটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) খুলনা শাখা কতৃক আয়োজিত ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০১৯’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

 তিনি আরো বলেন, ৯০ দশকে যখন কম্পিউটারের মূল্য কমানোর জন্য বিসিএস কার্যকরী ভূমিকা রাখে, তখন অনেক মানুষ ভেবেছিল এই কম্পিউটারের মূল্য কমাতে সাধারণ জনগণ কি সুবিধা ভোগ করবে? বিংশ শতাব্দীতে এসে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের দুরদর্শী পরিকল্পনার ফলে সারা পৃথিবীতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিসিএস এর এই এক্সপো খুলনাবাসীর জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। এমআরপি নীতি বাস্তবায়নের ফলে মানুষ এখন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে একই মূল্যে প্রযুক্তি পণ্য কিনতে পারছে।

 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল। তিনি বলেন, বিসিএস ডিজিটাল এক্সপোতে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তি বান্ধব। শিক্ষাখাত থেকে শুরু করে সরকারের সবকাজ ডিজিটাল হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন আর কোন কাজ সম্পন্ন করার জন্য কার্যালয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অনলাইনে সবকাজ সম্পন্ন করার জন্য ইউনিয়ন পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড লাইন পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির আলো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে খুলনার মানুষের মধ্যে বরাবরই আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। এ পর্যন্ত যতগুলো মেলা হয়েছে প্রতিটি মেলায় সফল। খুলনায় একটি আইসিটি টাওয়ার স্থাপনের ব্যাপারে আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। খুলনার নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই এই টাওয়ার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এই টাওয়ার তথ্যপ্রযুক্তিতে খুলনাকে আরো এগিয়ে নিবে।

 বিসিএস এক্সপো খুলনা ২০১৯ এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী বিসিএস এর পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, সারাদেশে বিসিএস তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের সফলতাও ঈর্ষণীয়। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমরাই একমাত্র সংগঠন, যারা একযোগে সারাদেশে বিসিএস এক্সপো করেছে। খুলনার এই এক্সপো খুলনার মানুষদের প্রযুক্তি বান্ধব করতে সহায়ক হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিসিএস মহাসচিব মোশারফ হোসেন সুমন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এল এম হাবিব, বিসিএস খুলনার শাখার চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, ভাইস-চেয়ারম্যান মো. জিয়াউর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি শেখ শাহিনুর আলম সিদ্দিক প্রমুখ।এক্সপোতে বিসিএস ডিজিটাল এক্সপোর স্মরণীকা উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএস খুলনা শাখার সেক্রেটারি মো. নাজমুল হাসান। এইচপি এবং আসুস বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো খুলনার প্লাটিনাম স্পন্সর। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে লেনোভো এবং ডেল। টেন্ডা, এক্সেল টেকনোলজিস লিমিটেড, ইউসিসি এবং ডাহুয়া টেকনোলজি এক্সপোর সিলভার স্পন্সর। এক্সপোর গেমিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে গিগাবাইট।

বিসিএস এক্সপোতে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবে।  সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চালু থাকবে। মেলায় দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন। পাঁচদিনব্যাপী এই মেলা ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/১৭এফ/১৯

Please Share This Post.