বিসিএস এর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি’র ৮ বিষয়ে সংশোধনীর দাবী !

গত ০৭ জুন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় বাজেট ২০১৬-২০১৭ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিসিএস এর সভাপতি আলী আশফাক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিএস এর সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শামীম, মহাসচিব ইঞ্জি. সুব্রত সরকার, পরিচালক এ.টি. শফিক উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রচার ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত ০২ জুন ২০১৬ তারিখে জাতীয় সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’র প্রত্যয় ব্যক্ত করে ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে মাইলফলক স্পর্শ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আত্নবিশ্বাসী মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।
বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিসিএস-এর প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনার বেশ কিছু বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে। তাই বাজেট পাশ করার আগে বিষয়গুলো পূনর্বিবেচনার প্রত্যাশা করছে বিসিএস।

বিসিএস সভাপতি বলেন, নিবন্ধিত UPS প্রস্তুতকারীদের জন্য UPS CASE এবং ঝবধষবফ Sealed Battery: for use in UPS (Capacity 85 amp or less) এর উপর আমদানী শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অবশ্যই স্থানীয় পর্যায়ে UPS  তৈরী শিল্প স্থাপনে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ওয়াইফাই/ওয়াইম্যাক্স LAN কার্ড, Access Point এবং ফায়ারওয়াল একটি ইন্টারনেট সিকিউরিটি হার্ডওয়্যার সল্যুশন যা ইন্টারনেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সকল পণ্যের আমদানী শুল্ক হ্রাস করার এই প্রস্তাবনা দেশজুড়ে ইন্টারনেট সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বিসিএস এর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে আইসিটি খাতের কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী দাবী জানানো হয়।
১. প্রস্তাবিত বাজেটে Heading `84.71’ এ উল্লেখিত সকল এইচ.এস. কোড (Computer and computer accessories) এর বিপরীতে আমদানী শুল্ক (CD) ২% থেকে বৃদ্ধি করে ৫% করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। বর্ণিত Heading এর বিপরীতে আমদানী শুল্ক ২% থেকে ৫% বৃদ্ধি করা হলে আইসিটি পণ্য আমদানীতে সরকারের অগ্রাধিকার খাতের গুরুত্বকে বাধাগ্রস্ত করবে, যা আইটি অবকাঠামো গঠনের পথে মারাত্বক অন্তরায় হবে। এর ফলে কম্পিউটারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল ক্লাস রুম, ল্যাব, ই-সেবা কেন্দ্র, ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকারের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। আমদানী শুল্ক পূর্বের ন্যায় ২% বহাল রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি।
২. বিদায়ী অর্থ বছরেও ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটর মনিটর আমদানী শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছিলো। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে এই সুবিধা কমিয়ে ২২ ইঞ্চির স্থলে ১৯ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ২২ ইঞ্চি বা তার নিচের আকারের মনিটর কোন খ্যাতিমান প্রস্তুতকারক উৎপাদন করে না এবং উৎপাদিত মজুদ শেষে আগামীতে ২২ ইঞ্চির নিচে কোন মনিটর উৎপাদন করা হবে না। অতএব স্বাভাবিক নিয়মেই মনিটরের আকার ১৯ ইঞ্চিতে সীমাবদ্ধ করা সমিচীন হবে না এবং এই আকার ২২ ইঞ্চি থেকে বৃদ্ধি করে ২৮ ইঞ্চি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবী।
৩. তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু এই জন্য প্রয়োজনীয় ‘অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল’ আমদানীতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাবটি বিবেচনার দাবী রাখে। কিন্তু ‘অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল’ এর আমদানী শুল্ক ১০% থেকে বৃদ্ধি করে ১৫% করার প্রস্তাব করায় আমরা আশাহত হয়েছি। আমরা ‘অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল’ এর আমদানী শুল্ক ০% (শূন্য) করার প্রস্তাব করছি।
৪. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ০৬ আগষ্ট ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর দ্বিতীয় সভায় বাংলাদেশে ডিজিটাল পণ্য তৈরী এবং সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণের উপর জোর দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের উপর থেকে সকল ধরণের শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি। আমাদের বিশ্বাস, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের উপর থেকে সকল ধরণের শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে ‘Make by Bangladesh’ এবং মেধা ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অনেকদূর এগিয়ে যাবে এবং ডিজিটাল পণ্য রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করবে।
৫. খুচরা পর্যায়ে কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিক্রির উপর ব্যবসায়ী বা দোকানের ক্ষেত্রে পূর্বে পরিশোধিত প্যাকেজ মূসকের সমপরিমাণ বহাল রাখার জন্য বিসিএস এর পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হয়েছে। প্যাকেজ মূসককে পূর্বের সমপরিমাণ বহাল রাখা এবং প্যাকেজ মূসককে চূড়ান্ত মূসক হিসেবে গণ্য করা হোক।
৬. তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবাসমূহের দ্রুত প্রবৃদ্ধির সুবিধার্থে এ খাতের সেবাসমূহকে আয়কর এর ন্যায় মূল্য সংযোজন কর আইন S০৯৯.১০ অনুযায়ী প্রস্তাবিত উৎসে মূসক খাতে ৪.৫% হারে কর্তনের আওতা বহির্ভূত রাখার জন্য অনুরোধ করছি।
৭. কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানী ও উৎপাদনোত্তর সরবরাহ করা হলে সেক্ষেত্রে মূসক কোড So৩৭ এ যোগানদারের সংঙ্গায় সংঙ্গায়িত করে অন্যান্য পণ্যের ন্যায় নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫% উৎসে মূসক কর্তন করা হয়। যদিও এস.আর.ও নং-৭৬/আইন/২০১৬/৭৫২-মূসক তারিখ ২০১৬ অনুযায়ী বর্ণিত পণ্যেসমূহ আরোপণীয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর হতে অব্যহতিপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে যোগানদারের সংঙ্গায় সংঙ্গায়িত সরবরাহকৃত কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশের উপর উৎসে মূসক কর্তন সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়, যা রহিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
৮. সরকারী সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া আইসিটি খাতের বেসরকারী পর্যায়ের সামনে এগিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আইসিটি খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্দির জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি বিশেষ দাবী জানাচ্ছে।

রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অন্যতম খাত হিসেবে বিবেচিত দেশের আইসিটি খাতকে সুদৃঢ় করতে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলি ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবী হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করে বিসিএসের প্রস্তাবনাগুলো বাজেটে প্রতিফলনের সুব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.