বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা পাচ্ছেন মোস্তাফা জব্বার

প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, সংগঠক, লেখক-সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, মন্ত্রী… তার নামের সাথে এমন আরো অনেক তকমাই জুড়ে দেয়া যায়। তবে তাকে চেনার জন্য এসব কিছুরই প্রয়োজন নেই। শুধু নামটাই যথেষ্ট – মোস্তাফা জব্বার।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট তাকেসম্মাননা জানাবে।  আগামী ৬ মার্চ বিকালে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এই গুণীজনকে বিবার্তা স্বর্ণপদক দেয়া হবে।

এবারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ১০টি ক্যাটাগরিতে ১০জনকে সম্মাননা দেয়া হবে।

মোস্তাফা জব্বারের পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামে নানাবাড়িতে তাঁর জন্ম। বাবা আব্দুল জব্বার তালুকদার পাটের ব্যবসায়ী ও সম্পন্ন কৃষক ছিলেন।

১৯৬০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত বিরাট নামক একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৬ সালে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই পরীক্ষাটি ১৯৭১ সালে হবার কথা ছিলো। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষা হলেও মুক্তিযুদ্ধের কারণে পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালের পরীক্ষা ১৯৭৪ সালে সম্পন্ন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনে মোস্তাফা জব্বার রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য চর্চা, সাংবাদিকতা, নাট্য আন্দোলনের সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার লেখা বাংলাদেশের প্রথম গণনাট্য ‘এক নদী রক্ত’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মঞ্চস্থ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে নির্বাচন করে সূর্যসেন হলের নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার আগে তিনি সাপ্তাহিক ‘জনতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৭১ সালে মোস্তাফা জব্বার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর খালিয়াজুরি থানার সহ-অধিনায়ক ছিলেন।

ছাত্র থাকাকালেই মোস্তাফা জব্বারের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে। সেই সময়ে তিনি সাপ্তাহিক (পরে দৈনিক) গণকণ্ঠ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন।

১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন।  গণকণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি ট্রাভেল এজেন্সি, মুদ্রণালয়, সংবাদপত্র ইত্যাদি ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৮৭ সালের ২৮ এপ্রিল মেকিনটোশ কম্পিউটারের বোতাম স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে কম্পিউটার ব্যবসায় প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে তিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কি-বোর্ড ও সফটওয়্যার। এটি প্রথমে মেকিন্টোশ কম্পিউটারের জন্য প্রণয়ন করা হয়।  পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ তিনি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কি-বোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন।

মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের সংবাদপত্র, প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পে ডিটিপি বিপ্লবের অগ্রনায়ক। তিনি আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা। তার হাতেই গড়ে ওঠে দেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা নিউজ সার্ভিস আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ (আবাস)। তিনি এর চেয়ারম্যান ও সম্পাদক। তিনি আটাব-এর মহাসচিব, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-০৯ সময়কালে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো,২০১০-১১ সালে তৃতীয় বারের মতো এবং ২০১৪ পর্যন্ত চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক.

 

Please Share This Post.