বিটিআরসি’র সঙ্গে সিনেসিস আইটির চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সঙ্গে বৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি। রাজধানীর রমনাতে বিটিআরসি -এর অফিসে দুই পক্ষের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়াও সিনেসিস আইটির সাথে যৌথ উদ্যোগে রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড এবং কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড বিডি এই প্রকল্পে কাজ করবে।

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নামের ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনার জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সিনেসিস আইটি-কে মনোনীত করেছে বিটিআরসি। অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন বিটিআরসি’র পরিচালক, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট, লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল এবং সিনেসিস আইটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো.জহুরুল হক, মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. শহীদুল আলম, পিবিজিএমএস এবং পরিচালক, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট, লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল, উপ-পরিচালক, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট, সঞ্জীব কুমার সিংহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হারুন-উর-রশিদ ও পরিচালক আব্দুর রাশিদ, মহাব্যবস্থাপক ও আইটি-ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রধান আমিনুল বারী শুভ্র, মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবসা-প্রকল্প পরিচালনার প্রধান তানভির আলম এবং রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড ও কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড বিডির প্রতিনিধিগণ।

উল্লেখ্য এই প্রকল্পের শুরু থেকেই সিনেসিস আইটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী সামগ্রিক পরিকল্পনা ও দিক নির্দেশনার মাধ্যমে সিনেসিস আইটিকে প্রকল্পের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রকল্প নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো.জহুরুল হক বলেন, “সিনেসিস আইটি যোগ্য হিসেবেই এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছে এবং আমি আশা করবো তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে। সব মিলিয়ে এটি একটি ফলপ্রসূ চুক্তি হবে বলে আমার আশা”।

সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরি বলেন, “জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ NEIR প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করা হবে। যেভাবে আমরা দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিটিআরসির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বায়োমেট্রিক ভিত্তিক সিম নিবন্ধন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি এখানেও তাই হবে”। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা NEIR প্রকল্পটি নির্ধারিত ১২০ কার্যদিবসের আগেই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।”

গত ফেব্রুয়ারিতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নামের এই ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ৫ নভেম্বর বিটিআরসির পক্ষ থেকে সিনেসিস আইটির দরপত্র জেতার নির্দেশনা (নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড) জারি করা হয়।

বিটিআরসি ২০১২ সালে প্রথম অবৈধ মুঠোফোন বন্ধ এবং বৈধ মুঠোফোনের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়। তবে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ বছর দরপত্র আহ্বান ও একটি কোম্পানিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ পাচ্ছে। চুক্তি করার ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে সিনেসিস আইটিকে পুরো ব্যবস্থাটি চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে সিনেসিস আইটির। তারা জানিয়েছে বিটিআরসির নির্দেশিত সব নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার আমদানি করতে ১৬ সপ্তাহ এবং ডাটা সেন্টার সেটআপ করতে ১২ সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। আগামী বছরের শুরুর দিকে সবকিছু প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে সিনেসিস আইটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

Please Share This Post.