বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালীকে স্মরণ

গ্রামের সাধারণ কৃষক বিজ্ঞানী হরিপদ কাপালী নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছেন।তার আবিষ্কৃত ‘হরির ধান’ পরবর্তীকালে ‘হরিধান’ নামে পরিচিতি লাভ করে। গত ৬ জুলাই তিনি মারা যান।

তাকে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ১২জুলাই, কৃষক-বিজ্ঞানী স্যার হরিপদ কাপালী স্মরণ সভার আয়োজন করে। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ এস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ড. রেজাউর রহমান।

হরিধানের সঙ্গে অন্যান্য ধানের পার্থক্য নিরুপনে নেতৃত্ব দানকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ সেই গবেষণার কথা স্মরণ করে জানান, ‘একজন বিজ্ঞানী যেভাবে একটি নতুন কিছু এই সভ্যতাকে দিয়ে যান সেভাবে হরিপদ কাপালীও আমাদের নতুন একটি ধান দিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় তিনি কেবল নতুন ধানই খুঁজে সেটা সংরক্ষণ করেননি বরং একই সঙ্গে তা তার প্রতিবেশী অন্যান্য কৃষকদের মধ্যে বিতরণও করেছেন। যা অনন্য।’

সভায় জেবা ইসলাম সেরাজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএচডি গবেষক সাবরিনা মরিয়ম ইলিয়াস হরি ধানের সঙ্গে সে সময়কার অন্যান্য ধানের জীনগত ও আচরণগত পার্থক্য তুলে ধরেন।

তাদের বক্তব্যে জানা যায়, মাঠে মাঠে ধানের বদলে যাওয়ার ব্যাপারটা দীর্ঘকাল ধরে হয়ে আসছে। হরিপদ কাপালীর মতো কৃষক-বিজ্ঞানীদের হাত ধরে সেগুলো আলাদা জাত হিসাবে চিহ্নিত ও সংরক্ষিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘হরিধান আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে আমাদের কৃষককুলের ঐতিহ্যের কথা। হাজার জাতের ধানের সৃষ্টি আমাদের এই কৃষকদের হাতে। এখন আমাদের দরকার হরিপদ কাপালীদের সঙ্গে ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীদের মিলন ঘটিয়ে দেওয়ার। যে উচ্চফলনশীল বন্যা-খরারোধী ‘জাদুধানের’ খোঁজ করছে মানবজাতি, সেটি হয়তো বিকশিত হচ্ছে কোনো এক হরিপদ কাপালীর ঘরের পেছনের বীজতলায়। তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে নিয়ে আসতে হবে সামনে।’

আগামী দিনে বাঙালি আরো এমন অনেক গুণী কৃষক-বিজ্ঞানী পাবে এবং তাদের জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে বাংলাদেশের খাদ্যভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ হবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. রেজাউর রহমান। স্মরণসভার শুরুতে হরিপদ কাপালীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.