বিকাশের অংশীদার হতে চায় আলীবাবা

ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি বিকাশের অংশীদার হতে চায় অনলাইন শপ কোম্পানি আলীবাবা। এরই মধ্যে বিকাশের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করেছে আলীবাবা।

সংশ্নিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য মিলেছে। তবে বিকাশ বা ব্র্যাকের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে এখনই কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

সূত্র জানায়, আলীবাবার হিসাবে বর্তমানে বিকাশের মোট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। যদিও বিকাশের নিজস্ব হিসাবে তা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

আলীবাবা শেষ পর্যন্ত অংশীদার হলে বিকাশের কত শতাংশ শেয়ার নেবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে. এর পরিমাণ বিকাশের মোট শেয়ারের কমপক্ষে ১০ শতাংশ হবে। এমনকি তা ৩০ শতাংশ হতে পারে। এ হিসাবে বিকাশের অংশীদার হতে আলীবাবা ৮ থেকে ২৪ কোটি ডলার বা প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, আলীবাবার অংশীদার হওয়ার বিষয়টি এখনও শুধু আলোচনার পর্যায়ে আছে। শেষ পর্যন্ত আলীবাবা বিকাশের অংশীদার হবে কি-না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। বিশেষত শেয়ারদর নির্ধারণ নিয়ে দর-কষাকষিসহ নানা ইস্যুতে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। তা ছাড়া সংশ্নিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদনের বিষয়ও জড়িত।

আলীবাবার জন্য বিকাশ নতুন করে শেয়ার ইস্যু করবে, নাকি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কেউ তার নিজের শেয়ার ছাড়বে, সে বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়নি। তবে উভয় দিক নিয়েই আলোচনা চলছে। নতুন শেয়ার ইস্যু করতে হলে বিকাশে নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্র্যাক ব্যাংককেও শেয়ার কিনতে হবে। অপর এক সূত্র জানিয়েছে, মানি ইন মোশন এলএলসি তার শেয়ার বিক্রি করতে রাজি।

এ বিষয়ে জানতে ব্র্যাক ব্যাংক বা বিকাশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

তবে গত ১০ অক্টোবর মূল্য সংবেদশীল তথ্য হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক জানায়, কৌশলগত অংশীদার হতে ইচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিকাশ চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে একটি ‘নন ডিসক্লোজার’ সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম উল্লেখ করেনি ব্র্যাক। মূল্য সংবেদশীল তথ্যে আরও বলা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বিকাশের অংশীদার নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক দর কষাকষি, বাধ্যবাধকতাসহ শেয়ার ক্রয়ের চুক্তি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষ। এটি ‘নন বাইন্ডিং’ অর্থাৎ সমঝোতা শেষ পর্যন্ত হতেও পারে, নাও হতে পারে।

বিকাশের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার বাজারের সাড়ে ৭৫ শতাংশই ছিল বিকাশের।

বিকাশে ব্র্যাক ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারের ৫১ শতাংশ। শুরুতে মাত্র ৩৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের থেকে প্রিমিয়াম নিয়েছে ২১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকারও বেশি।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি মানি ইন মোশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোম্পানিটি গঠিত হয়। বর্তমানে এমআইএমের শেয়ার সাড়ে ৩৬ শতাংশ। ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফসি সাড়ে ১২ শতাংশ শেয়ার কেনে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪৭ হাজার ৭৪৪টি শেয়ার কিনতে খরচ করেছে ১ কোটি ডলার। তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য পড়ে ১৬ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ছাড়া বিকাশে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মূলধন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮৬ কোটি টাকায় ৪০ হাজার ৯৭০টি রুপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার কিনেছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়েছে ২০ হাজার ৭০০ টাকা।

ব্র্যাক ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিকাশ ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। কর পরবর্তী নিট মুনাফা করে ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.