বায়োমেট্রিক রিরেজিস্ট্রেশনে কমিশন নিয়ে জটিলতা!

আঙ্গুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) নিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি নামেমাত্র কমিশন দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলি-রিচার্জ অ্যান্ড মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশন। সমিতিরি সভাপতি নুরুল হুদা বলেছেন, সিম প্রতি রি-রেজিস্ট্রেশন বাবদ রিটেইলারদের মাত্র এক টাকা আশি পয়সা কমিশন দিচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। এ কারণে এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সিম রি-রেজিস্ট্রেশনের কমিশনসহ টেলি রিচার্জ এবং মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার নানা প্রতারণা ও অনিয়মের ফিরিস্তি দিয়ে নুরুল হুদা বলেন, সিম রি-রেজিস্ট্রেশন করে একজন রিটেইলার দিনে ৬০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন না। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছেন। কমিশন ৩০ থেকে ৫০ টাকা করা না হলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির কার্যক্রম সফল হবে না। হতাশার কারণেই গত ডিসেম্বরে শুরুর পর দেশের প্রায় ১৫ কোটি সিমের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৫ কোটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল কোম্পানীগুলো ব্যাবসায়িক স্বার্থে রিচার্জ সিমে বাধ্যতামূলকভাবে রিটেইলারদের ঘাড়ে অতিরিক্তি ৩০০০ টাকা করে স্টক ব্যালান্স রাখার নিয়ম চালু করেছে। রিটেইলাররা এই টাকায় কখনোই হাত দিতে পারবেন না। এটাকা সবসময় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্টক ব্যালান্স রাখার নামে কৌশলে কোম্পানিগুলো দেশের ১০ লাখ রিটেইলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা নিজেদের কব্জায় রেখে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারছে। আর এ বোঝা বইতে গিয়ে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নাজেহাল হচ্ছেন।

নুরুল হুদা বলেন, রিচার্জ বাবদ কোম্পানিগুলো হাজারে মাত্র ২৭ টাকা কমিশন দেয়। যা বর্তমান বাজারে কোনো অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না।

আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশের ১০ লাখ টেলি রিচার্জ ব্যবসায়ী তাদের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন জাকির, কামাল হোসেন কামাল প্রমুখ।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.