বাগ ট্র্যাকিং, ফিডব্যাক ও মনিটরিংয়ের যত টুল

সৌম্য চট্টোপাধ্যায় : প্রোগ্রামার মাত্রই জানেন, সফটঅয়্যারে বাগ খুঁজে বের করা কতটা জরুরি। তবে আশার কথা হচ্ছে, এই কাজটি ম্যানুয়ালি করার দরকার নেই। আপনার হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ কাজটি করার জন্য আছে অনেক ভালো ভালো প্রোগ্রাম। আজকের লেখায় বাগ খুঁজে বের করা, ফিডব্যাক ও মনিটরিংয়ের বাছাই কয়েকটি ওপেন সোর্স টুল-এর খোঁজখবর দেয়া হলো। প্রোগ্রামিং ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট পেশাজীবীদের কাজে আসবে আশা করি।

 

১। বাগজিলা (Bugzilla)

বাগ ট্র্যাকিং সফটঅয়্যারের মধ্যে বাড়জিলা একটি স্বতন্ত্র স্থান দখল করে আছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রোগ্রাম, যেটিতে আছে অসংখ্য উপকারী ফিচার। এসব ফিচারের মধ্যে আছে অগ্রসর অনুসন্ধান সামর্থ্য, একাধিক ফরম্যাটে বাগের তালিকা তৈরি, শিডিউল্ড রিপোর্ট, অটোমেটিক ডুপ্লিকেট বাগ ডিটেকশন, ইমেইলের মাধ্যমে বাগ ফাইল/মোডিফাই করার সুবিধা, টাইম ট্র্যাকিং, রিকোয়েস্ট সিস্টেম, প্রাইভেট অ্যাটাচমেন্ট ও কমেন্ট, প্যাচ ভিউয়ার ইত্যাদি।

 

২। ম্যানটিস বিটি (Mantis BT)

ম্যানটিস বিটি একটি ওয়েবভিত্তিক বাগ ট্র্যাকিং সিস্টেম যেটি কেবল বাগকে খুঁজে বেরই করে না, এতে এমন একটি ইউজার সিস্টেম আছে যার সাহায্যে একাধিক ব্যবহারকারী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে এবং একাধিক প্রজেক্টের বাগ ট্র্যাক করতে পারেন। এর গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলোর মধ্যে আছে ইন্টিগ্রেটেড উইকি, চ্যাট, আরএসএস ফিড, টাইম ট্র্যাকিং, সোর্স কোড ইন্টিগ্রেশন, বিল্ট-ইন রিপোর্টিং, ইমেইল নোটিফিকেশন, অ্যাটাচমেন্ট, মাল্টি-ডিবিএমএস সাপোর্ট, সাপোর্ট ফর মোবাইল ডিভাইসেস ইত্যাদি।

 

৩। রেডমাইন (Redmine)

রেডমাইন একটি ফ্রি ও ওপেন সোর্স, ওয়েবভিত্তিক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও বাগ ট্র্যাকিং টুল। এতে আছে সমন্বিত প্রকল্প ব্যবস্থাপনার যাবতীয় উপকরণ, যেগুলোর সাহায্যে একাধিক সফটঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টকে একত্রে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। এতে আরো আছে ইস্যু ট্র্যাকিং, মাল্টিপল ভার্সন কন্ট্রোল অপশনের জন্য সাপোর্ট, নমনীয় রোল বেসড অ্যাকসেস কন্ট্রোল, প্রজেক্টের ডেডলাইনসহ অন্যান্য বিষয়ের ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশনের জন্য ক্যালেন্ডার ও গ্যান্ট চার্ট, ফিড ও ইমেইল নোটিফিকেশন, টাইম ট্র্যাকিং, প্রজেক্ট উইকি, প্রজেক্ট ফোরাম ইত্যাদি।

 

৪। রিকোয়েস্ট ট্র্যাকার (Request Tracker)

রিকোয়েস্ট ট্র্যাকার একটি এন্টারপ্রাইজ গ্রেড টিকেটিং ও হেল্পডেস্ক সফটঅয়্যার, যেটির সাহায্যে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আসা কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট ও রিকোয়েস্ট ব্যবস্থাপনা করা যায়। সাধারণত হেল্পডেস্ক সিস্টেম হিসেবেই এর ব্যবহার বেশি হয়। রিকোয়েস্ট ট্র্যাকার যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম তার মধ্যে আছে আইডেন্টিফিকেশন, প্রায়োরাটাইজেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, রেজল্যুশন ও নোটিফিকেশন, যা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, হেল্প ডেস্ক, এনওসি টিকেটিং, সিআরএম ও সফটঅয়্যার ডেভেলপমেন্টসহ নানা কাজে দরকার হয়। এটির আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড ও ওয়েবওএস ডিভাইসের জন্য আছে পৃথক মোবাইল-অপটিমাইজড ইন্টারফেস। আরো আছে ড্যাশবোর্ড ও রিলেশনশিপ গ্রাফ, রিচ টেক্সট এডিটিং, সহজ ব্র্যান্ডিং ও কাস্টম থিমিং সুবিধা।

 

৫। ফসিল (Fossil)

ফসিল একটি ডিস্ট্রিবিউটেড বাগ ট্র্যাকিং, ভার্সন কন্ট্রোল, উইকি ও ব্লগ মেকানিজম – যার সবই একটিমাত্র চমৎকার প্যাকেজের মধ্যে পাওয়া যাবে। এতে আছে বিল্ট-ইন এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য ওয়েব ইন্টারফেস, এটি অটো সিঙ্ক মোড সাপোর্ট করে, সিজিআই এনাবল্ড এবং সহজে ব্যবকহারযোগ্য নেটওয়ার্কিং সুবিধাও প্রদান করে। এই শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পণ্যটি সহজে ইনস্টল করা যায়, যেটি নানা প্লাটফর্মে স্বচ্ছন্দে কাজ করে।

 

৬। পিএইচপি বাগ ট্র্যাকার (Php Bug Tracker)

পিএইচপি বাগ ট্র্যাকার একটি ওয়েবভিত্তিক বাগ ট্র্যাকার, যাতে বাগজিলার মতই গুরুত্বপূর্ণ সব ফিচার রয়েছে। এর ডিজাইনটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে প্রেজেন্টেশন, অ্যাপ্লিকেশন ও ডাটাবেস লেয়ারের মধ্যে পার্থক্যটি সহজে বোঝা যায়। পিএইচপি বাগ ট্র্যাকার আকার ও আয়তনে খুবই ছোট এবং এটি ইনস্টল করাও বেশ সহজ। অল্প চেষ্টাতেই এটি ব্যবহার ও পরিচালনা করা শিখে নেয়া যাবে। এটিকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে কাস্টমাইজ করা যাবে।

 

৭। ক্রিটারসিজম (Crittercism)

ক্রিটারসিজম-এর মূল কথা হলো: চিন্তা বাদ দিন এবং তৈরি করতে শুরু করুন (Stop worrying and start building)। এটি মূলত মোবাইল অ্যাপ-এর পারফরম্যান্স মনিটরিংয়ের একটি টুল। অ্যাপ-এর কার্যক্ষমতা বিচার করার জন্য নানা সূচক অনুসরণ করে সেটিকে পরিমাপ করা যায়, যেমন ক্র্যাশ রেট, অ্যাপ লোড টাইম, নেটওয়ার্ক লেটেন্সি, ইউআই লেটেন্সি ইত্যাদি। থার্ড পার্টি সার্ভিস ও কম্পোনেন্ট-এর জন্য যেসব ক্র্যাশ ঘটে থাকে সেগুলোও পরিমাপ করার ব্যবস্থা আছে এতে।

 

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.