বাংলালিংক নেক্সটটিউবার বিজয়ীদের সাথে কিছু সময়  

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন রিয়েলিটি শো বাংলালিংক নেক্সট টিউবারের চ্যাম্পিয়ন ফিউশন প্রোডাকশনের রাফিদ মাহাদি এবং প্রথম রানার্স আপ রাসেল তপুর সাথে আড্ডা হয় বাংলালিংকের হেড অফিসে। সাথে ছিলেন বাংলালিংকের কর্মকর্তা মুকিত আহমেদ, হেড অব ই-বিজনেস ।। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিনিউজের সৈয়দ মোহাইমিনুল ও গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

সিনিউজ : প্রথমেই আপনাদের অভিনন্দন বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন রিয়েলিটি শোয়ের বিজয়ী এবং রানার্স আপ হওয়ার জন্য।

রাফিদ ও রাসেল : আপনাদের ধন্যবাদ।

সিনিউজ : প্রথমেই জানতে চাই ইউটিবার হওয়ার পেছনের গল্প।

রাফিদ : মূলত আমি আমার বন্ধু আহনাফ মিলে তিন বছর আগে ইউটিউবে কাজ করা শুরু করি, তখন আসলে দেশে এত ইউটিউবার ছিলনা। তো একদিন আহনাফ আমাকে বলল যে তুই তো ভালো গান করিস, আমিও ভালো র‍্যাপ করি। চল একটা চ্যানেল খুলে ফেলি ইউটিউবে। তো তখন থেকেই কমেডি নির্ভর একটা চ্যানেল খুলে কাজ শুরু করি মানুষজনকে বিনোদন দেয়ার জন্য। তখন এতটা সিরিয়াস ছিলাম না, কিন্তু মানুষের কাছে থেকে ভালো ফিডব্যাক পাওয়ার পর আসলে ভাবি যে সিরিয়াসলি কাজ করি।

রাসেল : মূলত আমি বন্ধুদের মাঝে আড্ডায় অনেক মজা করতাম, জোকস বলতাম যেটা ওরা খুব উপভোগ করত। ওরাই আমাকে বলে ইউটিউবে চ্যানেল খুলতে। তারপর চ্যানেল খুলে ভিডিও দেয়ার পর সবার ভালো রেস্পন্স পাই। এভাবেই শুরু।

সিনিউজ : আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ও ভিডিও সংখ্যা কত?

রাফিদ : প্রায় ২৭ হাজার, ১৫ টির মত ভিডিও।

রাসেল : প্রায় ২৭ হাজার, ৯০ টির মত ভিডিও।

সিনিউজ : বিজয়ী হওয়ার পরে আপনাদের পরবর্তী লক্ষ্য কি?

রাফিদ : এখন আরো বেশি সিরিয়াসলি কাজ করতে চাই। মানুষজনকে আমাদের গানের মাধ্যমে মেসেজ দিতে চাই। যেহেতু আমরা র‍্যাপ ব্যাটেল করি তাই আশা করি গানের মাধ্যমে আমাদের দেয়া মেসেজ অনেকদিন মানুষের মাথায় থাকবে।

রাসেল : আরো ডেডিকেশনের সাথে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

সিনিউজ : নেক্সট টিউবার প্ল্যাটফর্ম থেকে কি শিখলেন?

রাফিদ ও রাসেল : আসলে অনেক কিছুই শিখেছি, যারা বিচারক ছিলেন তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউটিউবার, গ্রুমিং এ তাদের কাছে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শিখেছি। আগে দেখা যেত একটা ভিডিও করতে আমাদের ১ মাস লেগে যেত, এখন অনেক অল্প সময়ে আমরা ভিডিও তৈরি করতে পারি।

সিনিউজ : আপনার চ্যানেলের টার্গেট অডিয়েন্স কারা।

রাফিদ : আমার টার্গেট অডিয়েন্স হচ্ছে টিনেজাররা যারা আমার বয়সী।

রাসেল : আমারো টার্গেট অডিয়েন্স হচ্ছে তরুণরা, আমার জোকসগুলো আসলে এত সিম্পল যে খুব বড় কেউ আসলে এগুলো তেমন একটা উপভোগ করবেনা।

সিনিউজ : কয়েকজন ইউটিউবারের নাম বলুন যারা আপনাদের অনুপ্রেরণা যোগায়?

রাসেল : প্রথমে অবশ্যই আমাদের বিচারকেরা তারপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের লিলি সিং, ফুসি টিউব, কেসি নিসট্যাট।

রাহিদ : রায়ান হিগা, ই আর বি ।

সিনিউজ : চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর জন্য কি করেন ?

রাফিদ : আমরা ইউনিক কন্টেন্ট তৈরি করি যেমন আমরা র‍্যাপ ব্যাটেল করে উপরের দিকে উঠতে চাই।

সিনিউজ : কনটেন্ট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম কিভাবে ব্যবহার করেন?

রাহিদ ও রাসেল : মূলত আমরা ফেসবুক ব্যবহার করে আমাদের কনটেন্ট বেশিরভাগ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি

সিনিউজ : ইউটিউবে আপনাদের কনটেন্টের ভিজিবিলিটি বাড়ানোর জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিভাবে করেন?

রাহিদ ও রাসেল : আমরা ভিডিও তৈরি করার পরে ট্যাগলাইন এবং কিওয়ার্ড ব্যবহার করি, এবং অডিয়েন্সের ভালো লাগা, কত সময় নিয়ে দেখছে এবং লাইকের দিকে নজর রাখি।

সিনিউজ : অডিয়েন্সের ফিডব্যাক নেন কিভাবে?

রাহিদ ও রাসেল : আমরা সাধারণত কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে ফিডব্যাক নেই, এছাড়া আমাদের ফেসবুকে ফ্যানপেজ আছে সেখানেও তাদের সাথে কানেক্ট হই। তাদের ফিডব্যাক থেকেই বোঝার চেষ্টা করি আমাদের ভুল কি ছিল, তারা কি কি পছন্দ বা অপছন্দ করছে। তাদের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করি।

সিনিউজ : প্রতিযোগিতা চলাকালীন বিশেষ কোন মুহূর্তের কথা বলুন।

রাসেল : প্রতিযোগিতা চলাকালীন বেসক্যাম্পে আমার পা কেটে যায় তখন এলিটা আপু আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু আমার কাছে ছিল মাত্র ২ ঘণ্টা, তাই আমি যেতে চাইনি কিন্তু আপু আমাকে জোর করে নিয়ে যেতে চাইছিল। তখন একপর্যায়ে আপুর কাছে থেকে আমি পালিয়েছি, কারণ সময় ছিলনা।

রাফিদ : আসলে একেবারে শেষ মুহূর্তে চ্যাম্পিয়নের নাম ঘোষণার সময়টাই আমার কাছে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল। কারণ ঘোষণায় একটু টুইস্ট রাখা ছিল।

সিনিউজ : নেক্সট টিউবার ধরনের প্রোগ্রাম আরো চান কিনা ?

রাহিদ ও রাসেল : হ্যাঁ অবশ্যই চাই এধরনের প্রোগ্রাম আরো হক। এই প্রোগ্রামের সিজন টু থ্রি হোক , কারন এখনো প্রচুর ছেলে মেয়ের মধ্যে সেই আগ্রহ আছে নিজের কাজগুলো দেখানোর জন্য। সবাই এই সুযোগ পেলে আরো অনুপ্রাণিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখনো ইউটিউব ভালোভাবে বোঝেনা, তাই বাংলালিংকের মত আরো কোম্পানি যদি আমাদের প্রমোশনে এগিয়ে আসে তাহলে আরো ভালো ইউটিউবার তৈরি হবে।

মুকিত আহমেদ বাংলালিংক

সিনিউজ : এই প্রতিযোগিতার আয়োজনের উদ্দেশ্য কি ছিল?

মুকিত : এটা একেবারেই নতুন একটা বিষয় আমাদের জন্য যে এরিয়ায় কেউ কাজ করেনি । আসলে এটা আমাদের জন্য এক ধরনের এক্সপেরিমেন্ট ছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের কয়েকজন সম্ভবনাময় ইউটিউবার খুঁজে বের করা। এই মাধ্যমটাকে জনপ্রিয় করে  বাংলালিংকের সাথে গুগল ইউটিউবের একটা এ্যাসোসিয়েশন করে বাজারে ইউনিক কিছু করার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যে থেকে কিছু ট্যালেন্ট বের করে নিয়ে আসা।

সিনিউজ : বিগত রিয়েলিটি শোগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্ভবনাময় ছেলে মেয়েদের খুঁজে বের করার পর আর সেভাবে মনিটরিং করা হয়না, একসময় তারা হারিয়ে যায়। এখানেও কি এধরনের কিছু ঘটার সম্ভবনা নেই?

মুকিত : দেখুন এখানেই আমাদের ভিন্নতা। আমরা তাদেরকে নিয়ে থেমে যেতে চাইনা। আমরা তাদেরকে সামনের দিকে কিভাবে যাবে এগুলো নিয়ে কাজ করছি, তাছাড়া আমরা আগেই বলেছিলাম টপ কয়েকজনকে গুগলের সাথে নির্ধারিত কয়েকটি প্রশিক্ষণ এ অংশগ্রহণে ব্যবস্থা করা দেয়া হবে। পেশাগতভাবে দেখতে গেলে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ইউটিউবারদের টেকনিক্যাল স্কিলের কিছু অভাব আছে যেখানে আসলে আমরা ভ্যালু অ্যাড করতে চাই। তাদের সেই দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে তুলে ইউনিক পজিশনে নিয়ে যেতে চাই। ধন্যবাদ সিনিউজকে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Please Share This Post.