বাংলাদেশের শিশুরাই হবে প্রোগ্রামার : মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শিশুরাই হবে প্রোগ্রামার। দুনিয়াজুড়ে রয়েছে প্রোগ্রামারদের বিপুল চাহিদা। পৃথিবীর সব উন্নত দেশ প্রোগ্রামার খুঁজে বেড়ায়। বিশ্বে প্রোগ্রামাররা কেবল চাহিদার শীর্ষে নয়, তারাই পায় সর্বোচ্চ সম্মানী ও সম্মান। ডিজিটাল দুনিয়াতে সেরা পেশাটির নাম প্রোগ্রামার। বাংলাদেশেও প্রোগ্রামারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে সফটওয়্যারের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামার পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়লেও তুলনামূলকভাবে বাড়েনি প্রোগ্রামারের সংখ্যা। বরং কম্পিউটার বিজ্ঞান যারা পড়ে তাদের মাঝেও রয়েছে প্রোগ্রামিং ভীতি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ে এমন ছাত্র-ছাত্রীদের শতকরা মাত্র ৮ জন প্রোগ্রামার হতে চায়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুসারে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ৫৮ জন কয়েক মাসের মধ্যেই এই বিষয় পড়া বাদ দিয়ে দেয়। তাদের কাছে বিষয়টি জটিল মনে হয়। আমরা মনে করি, এই অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য কেবল স্নাতক বা কলেজ স্তরে প্রোগ্রামিং শেখানোর উদ্যোগ নিলে হবে না। প্রোগ্রামার তৈরির জন্য শৈশব থেকেই শিশুদের প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য তাদের উপযোগি প্রোগ্রামিং শিক্ষা দিতে হবে, যার সহজতম উপায় হলো স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো। স্ক্র্যাচ এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা যা দিয়ে কোনো কোড লিখতে হয় না এবং কেউ একে খেলা হিসেবেই সেটি নিতে পারে।

বেসিস সভাপতি আরো বলেন, বেসিস শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে স্ক্রাচ শেখানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে একটি মাইলফলক উদ্যোগ গ্রহণ করলো। আমরা বেসিস থেকে মূলত একটি শিশু প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চাই। তবে আমাদের এই কাজটি একটু চ্যালেঞ্জিং। বড়দের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্য হলো যে, কেবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেই হয়। যারা অংশ নেবে তারা প্রস্তুতই থাকে। কিন্তু শিশুদের বিষয়টি হচ্ছে যে, আগে তাদেরকে শেখাতে হবে এবং তারপর প্রতিযোগিতায় তাদেরকে ডাকতে হবে। আমরা শিশুদেরকে সরাসরি শেখাবো এবং একই সঙ্গে শিশুদেরকে শেখানোর জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকেও শেখাবো। আমরা আমাদের বিশাল যাত্রার সূচনা করলাম। এরই ধারাবাহিকতায় বেসিসের উদ্যোগে আয়োজিত হবে শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। এটি ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে আয়োজিত হবে।

শিশুদের প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য বেসিস আয়োজিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে বেসিস সভাপতি এই কথাগুলো বলেন।

বেসিস তার অঙ্গ সংগঠন বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম) এর সহায়তায় গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট ২০১৭) রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিআইটিএমের ৩০২ নাম্বার ল্যাবে শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং পরিচিতি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তারা যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

উদ্বোধনকালে বেসিস সভাপতি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ও আগামীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আমরা স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদেরকে প্রোগ্রামিং শেখানোর কথা ভাবি। কিন্তু ওরা বস্তুত শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিং এর ধারণা পেতে পারে। আমরা শিশুদের জন্য সেই ব্যবস্থাটিই করতে চাই। শিশুদেরকে প্রোগ্রামিং শেখানোর মাধ্যমেই সেটি সূচনা করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ‘শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং শিক্ষা’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের জন্য স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো হবে। আমরা ২০১৮ সালের শুরুতে এইসব শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে একটি জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করব।’

এই প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিআইটিএমের প্রশিক্ষক সিরাজুল মামুন। সহযোগী হিসেবে ছিলেন মেহনাজ শারমিন মোহনা ও ফৌজিয়া আকতার নিহা। সিরাজুল মামুন বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা পরবর্তীতে শিশু-কিশোরদের কাছে এই শিক্ষা পৌছে দেবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে পরিচিত করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য একটি প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভব হবে। এই আয়োজনের সূচনায় থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।

এই আয়োজনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ডিক্যাস্টালিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবিলা ইনুন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামীর প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে প্রোগ্রামিং শিক্ষার বিকল্প নেই। বেসিসের এই উদ্যোগের সঙ্গে ডিক্যাস্টালিয়াকে রাখার জন্য ও কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বেসিস, বিআইটিএমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রথম ব্যাচে বাংলাদেশ ডিজিটাল স্কুল সোসাইটীর ৩০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা আগামীতে আরো শিক্ষকের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন বলে সোসাইটির প্রধান ইয়াহিয়া খান রিজন জানান।

প্রশিক্ষণার্থী ইয়াহিয়া খান বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে শিশুদের তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা যাবে। বড় হয়ে প্রোগ্রামার হওয়ার ভয় থাকবে না তাদের মধ্যে। তবে শিক্ষকদের আরো বেশি শেখার আগ্রহ তৈরি করতে হবে। তাদের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং।

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.