বাঁচবেন ২ বছর জানতেন, তারপরও বিয়ে…

১৯৬৩ সালে চিকিৎসকরা বলেই দিয়েছিলেন স্টিফেন হকিং বাঁচবেন আর মাত্র দুই বছর। কিন্তু তারপর অলৌকিকভাবে বেঁচে থেকেছিলেন তিনি। ওই সময় স্টিফেন হকিং ২১ বছরের তরুণ। হকিংয়ের এই অলৌকিক জীবনে জেন ওয়াইল্ড এক অনন্য ভলোবাসার নাম। কেননা হকিংয়ের আয়ু দুই বছর জেনেও বিয়ের আসরে বসেছিলেন জেন। ১৯৬৫ সালের জুলাই মাসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের দিন আমন্ত্রিত অতিথিরা জানতেন উজ্জ্বল হাসিখুশি চেহারা, সোনালি ফ্রেমের চশমা পরিহিত এ যুবকের আয়ু মাত্র দু’বছর।

কিন্তু তারপর অলৌকিকভাবে বেঁচে রইলেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে তার মস্তিষ্ক থেকে প্রস্ফুটিত হলো যুগান্তকারী তত্ত্ব। ২১ বছর বয়স থেকেই মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে করতে ৭৬ বছর বয়সে এতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ডাক্তারের বেঁধে দেয়া সময়ের পর তিনি আরো ৫৫ বছর বেঁচেছিলেন।

বুধবার (১৪ মার্চ) পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জানা যায়, ‘মোটর নিউরন’ রোগে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি সাধারণত রোগ ধরা পড়ার পর চার বছরের বেশি বাঁচেন না। স্টিফেন হকিংয়ের এই রোগ ধরা পড়েছিল ১৯৬৩ সালে। তারপরও ৫৫ বছর বেঁচে থাকা অলৌকিকতার চেয়ে কম কিছু নয়।

ত্রিশ বছর বয়সের আগেই তাঁর নড়াচড়া করার ক্ষমতা অনেকাংশে রহিত হয়ে যায়, স্থবির হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত কেবল হাতের একটি আঙুল নাড়ানোর ক্ষমতা ছাড়া সর্বোতভাবে অচল হয়ে পড়েন। সেই অবস্থায় নিজের দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয় দিয়ে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী, সর্বজন নন্দিত বক্তা হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেন। তাঁর লেখা বইও বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ।

সব জল্পনা-কল্পনাকে পাশ কাটিয়ে তারপরও তিনি বেঁচে রইলেন আরো ৫৫ বছর। অবশেষে আজ ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন অজানার উদ্দেশে। শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধের কাছে তো বটে, সবার কাছেই তিনি সেরা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক

Please Share This Post.