বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় ৩০৬০ কোটি টাকা

গ্রামীণফোন লি. ২০১৭ সালের ১ম প্রান্তিকে ৩০৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.১% বেশি । ডাটা থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৬৪.৯% সেই সাথে গ্রাহক ও ইন্টারনেটের ব্যবহারও বেড়েছে। ভয়েস কল থেকে অর্জিত রাজস্বও গত বছরের তুলনায় ৭.১%।

প্রথম প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনে গ্রাহক সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ কোটি ৯৯ লাখে, যা ডিসেম্বর ২০১৬ এর তুলনায় ৩.৩% বেশি। এই প্রান্তিকে ৭ লক্ষ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যোগ হওয়ায় মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২ কোটি ৫২ লক্ষ। এর ফলে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৪২.২% ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

গ্রামীণফোনের সিইও পেটার ফারবার্গ বলেন, ‘আমরা বছরের শুরুতেই একটি ভালো প্রান্তিক পার করেছি। আমাদের ডাটা ও ভয়েস রাজস্বের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে যা থেকে বোঝা যায় যে সেরা মানের নেটওয়ার্ক এবং সহজ সেবার বিষয়ে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি আছে তা গ্রাহকদের জন্য অধিকতর মূল্য সংযোজন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রান্তিকে আমরা ভয়েস ট্যারিফে স্থিতাবস্থা এবং ডাটা থেকে আয়ের উন্নতি লক্ষ্য করেছি। পরিচলন দক্ষতার বিষয়ে আমাদের গভীর মনোযোগ সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অধিকতর মূল্য সৃষ্টি করছে।’

আয়কর প্রদানের পর ২০১৬ এর ১ম প্রান্তিকের ২০.৪% মার্জিন সহ ৫৬০ কোটি টাকা মুনাফার তুলনায় ২০১৭ এর ১ম প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয়েছে ২১.৪% মার্জিন সহ ৬৬০ কোটি টাকা। দক্ষ পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রান্তিকে EBITDA (অন্যান্য আইটেমের আগে) হয়েছে ১৭৮০ কোটি টাকা। এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪.৮৬ টাকা।

গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, ‘রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এবং পরিচলন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যােগের ফলে গ্রামীণফোনের ভালো আয় হয়েছে। এই প্রান্তিকেও আমরা সাফল্যের ধারা অব্যাহাত রাখতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রান্তিকের ফলাফল এটাই প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতে কোম্পানির মুনাফা অক্ষুন্ন রাখতে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিচলন দক্ষতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

গ্রামীণফোন প্রথম প্রান্তিকে থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজি নেটওয়ার্ক এর মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৪৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গ্রামীণফোন এই সময় ২৩৮টি টুজি এবং ৭৭৬টি থ্রিজি বেস স্টেশন স্থাপন করেছে যার ফলে কোম্পানির টুজি সাইটের সংখ্যা হয়েছে ১২,২২২টি এবং থ্রিজি সাইটের সংখ্যা হয়েছে ১১,৩৩২ টি। এর ফলে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯৯ ভাগেরও বেশি টুজি এর আওতায় এবং ৯১ ভাগ থ্রিজির আওতায় এসেছে।। এদিকে দেশের বৃহত্তম করদাতা গ্রামীণফোন এই প্রান্তিকে সালে সরকারী কোষাগারে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি হিসেবে ১১৮০ কোটি টাকা দিয়েছে যা কোম্পানির মোট রাজস্ব আয়ের ৩৪.৪ শতাংশ।

গ্রামীণফোন গত ২০ এপ্রিল ২০১৭ তে সকল নিয়ম কানুন মেনে তার ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করে। সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারগণ ২০১৬ সালের জন্য ১৭৫ শতাংশ মোট নগদ লভ্যাংশ (৮৫% অন্তবর্তী নগদ লভ্যাংশ সহ) অনুমোদন করেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.