বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চুক্তি সম্পন্ন

ঢাকাঃ মহকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস স্পেসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনাগাঁও হোটেলে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস এর মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মি. জ্যঁ লইক গ্যাল তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগরে সচিব মো, ফয়জুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম, বিশেষ অতিথি ডাকটেলিযোগাযোগ  ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব ইমরান আহমেদ এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বিভন্ন মন্ত্রণালয়, বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মিসেস সফিই অবার্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারানা হালিম বলেন, আমাদের জন্য ভীষণ গর্বের দিন আজ। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত পদক্ষেপ সম্পন্ন হলো। আর আজকের এই বিশেষ দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এর স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।

তিনি বলেন, দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র চট্টগ্রামের বেতবুনিয়াতে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন স্থাপন করে এ স্বপ্নের প্রথমযাত্রা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পিতার দেখানো স্বপ্নকে বাস্তবায়নে সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পন্ন করলেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দিক-নির্দেশনা এবং আন্তরিক সহযোগিতায় মহাকাশে বাংলাদেশ ৫৭তম সদস্য হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিদেশি স্যাটেলাইটের পেছনে যে খরচ হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে। ফলে দেশে অনেক টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি এ স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

বিটিআরসি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য ২টি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জয়দেবপুর এবং রাঙ্গামটির বেতবুনিয়ায় স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এটি উৎক্ষেপিত হলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া ছাড়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক কম মূল্যে সম্প্রচার সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লানিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ট্রান্সপন্ডার বিক্রি করেও বৈদাশিক মুদ্র অর্জন করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ২০ নভেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি স্যাটেলাইট সিস্টেম ক্রয়ের লক্ষ্যে ১৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইট নির্মাণের এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পরিমাণ ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। আর বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা বিডার্স ফিন্যান্সিং এর মাধ্যমে র্সকুলান করা হবে।

সরকার পকিল্পনা করেছে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে ওড়াবে।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.