বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে বিসিএস এর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

 স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) অনলাইনে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় আলোচকরা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিজেদের স্মৃতিচারণ করেন।

১৬ আগষ্ট (রবিবার) বিকেল ৪টায় এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীরের সঞ্চালনায় এই স্মরণ সভা পরিচালিত হয়। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শেখ রাসেলের গৃহ শিক্ষিকা অধ্যাপক গীতালি দাশগুপ্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক(১৯৭২-৭৬) মাহবুব জামান এবং বিসিএস এর উপদেষ্টা মোজাম্মেল বাবু স্মৃতিচারণ করেন।

স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‍তুলনা শুধু বঙ্গবন্ধু। সাংবাদিকদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলেন। একবার তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। তখন কুড়িগ্রাম থেকে একটি ফোন আসে। সাথে সাথে তিনি তার সহকারীকে গাজী গোলাম মোস্তফাকে ফোনে সংযুক্ত করে বলেন, কুড়িগ্রামে আমার মানুষ মারা গেছে। তুমি ত্রাণের ব্যবস্থা করো এবং খোঁজ খবর নাও। তাঁর চেহারায় ব্যথিত ভাব বিরাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, তাঁর পরিবারের কেউ হয়তো মারা গিয়েছেন। তিনি এমনি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্বশাসন চালু হয়। শিক্ষকদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে তখন অনেকে আপত্তি করেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শিক্ষকরা তাঁদের বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়। এ থেকেই বুঝা যায় শিক্ষকদের তিনি কতটা শ্রদ্ধা করতেন।

ঢাবির সাবেক উপাচার্য বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি সাড়ে তিন থেকে চার কোটি মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ৭১ এ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তির পয়গাম দিয়েছেন। আজ ২০ কোটি মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করছে। ২০২৫ এ গিয়ে এই সংখ্যা ২৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

শিশুপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ রাসেলের গৃহ শিক্ষিকা অধ্যাপক গীতালি দাশগুপ্তা বলেন, শেখ রাসেলকে পড়ানোর প্রস্তাব যখন পেয়েছিলাম তখন সময়ের অভাবে ভেবেছিলাম এই টিউশনিটা আমার করানো হবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী যখন আমাকে বললেন, শেখ রাসেলের জন্য কি আধা ঘণ্টা সময় বের করা যায় না? না হলে ২০ মিনিট? একেবারে না পারলে ১৫ মিনিট? তখন আমি আর প্রত্যাখ্যান করতে পারিনি। তখনো আমি বুঝতে পারিনি আমি কাকে পড়ানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছি। ৭২ থেকে আমি শেখ রাসেলকে পড়ানো শুরু করি। ৭৫ এর ১৪ আগষ্টও আমি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে রাত ১১টা পর্যন্ত ছিলাম। শেখ রাসেলের গণিতের প্রতি অনীহা ছিল। তবে সে ছাত্র হিসেবে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে ‘মাস্টর’ বলে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধুকে শুধু আমি কাছ থেকেই দেখিনি, তাঁর সঙ্গে মধুর ঝগড়ার অভিজ্ঞতাও ছিল আমার। তিনি শিক্ষকদের সম্মান করতেন। কখনো তিনি এলে আমাকে দাঁড়াতে দিতেন না। তিনি বলতেন, তুই শুধু রাসেলের শিক্ষক না, আমারো শিক্ষক।

Please Share This Post.