বক্ষ্যবাধি হাসপাতালে এটুআইয়ের ‘সেন্ট্রাল নেবুলাইজার সিস্টেম’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর যৌথ আয়োজনে ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার, ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতালে ব্যবহারের জন্যে ‘সেন্ট্রাল নেবুলাইজার সিস্টেম’ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ।

উল্লেখ্য, পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে প্রতি বছর শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। জরুরি মুহূর্তে জটিল রোগীর শ্বাসকষ্ট দূর করতে নেবুলাইজিং করতে হয়। কিন্তু দেশে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল মাত্র একটি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নেবুলাইজার সংখ্যা সীমিত। ফলে প্রয়োজনের সময় অনেকে সেবা পায় না। স্টোর-কিপাররা সব সময় থাকে না, ফলে রোগীরাও সব সময় নেবুলাইজার পায় না। প্রচলিত নেবুলাইজার মেশিনের যান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি খুব সূক্ষ্ম হওয়ায় কোনো সমস্যা হলে বিকল নেবুলাইজার সারানো যায় না। প্রচলিত নেবুলাইজার সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় তা দ্রুত হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

এটুআই দ্বারা পরিচালিত তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে সলভ-এ-থন প্রতিযোগিতা ২০১৬-এ উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘সেন্ট্রাল নেবুলাইজার সিস্টেম’ বিজয়ী প্রকল্প হিসেবে নির্বাচিত হয়। পরবর্তী এক বছর এটুআই এর ইনোভেশন ল্যাবে প্রকল্পটিকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি পরিপূর্ণ সিস্টেম হিসেবে রূপান্তর করা হয়, যা কিনা জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর সহায়তায় সেখানে সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নেবুলাইজিং পাইপ এবং ওষুধের ডোজ একটি সুইচ ব্যবহার করেই ডিভাইসের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং আলাদাভাবে রোগীর সমস্যার তীব্রতা বিবেচনা করে নেবুলাইজিং করা যাবে।

সেন্ট্রাল নেবুলাইজারের সাহায্যে একই সময়ে অনেক রোগী একই সঙ্গে সেবা নিতে পারবে। একজন রোগীর বেলায় নেবুলাইজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেশিনটি কেবল ওই রোগীর বিছানার সঙ্গে সংযুক্ত পাইপের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। মূলত এটি সাধারণ নেবুলাইজারের বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। মেশিনটি বেশি কার্যকরী ও ব্যবহারবান্ধব এবং কোনো অসুবিধা ছাড়াই এটি রোগীর নেবুলাইজিং করতে পারবে। বহনযোগ্য না হওয়ায় হারাবার ঝুঁকিও থাকবে না। ফলে রোগীরাও সঠিক সময়ে সেবা পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্ভাবকগণ – আনোয়ার হোসেন, দীপক কুমার ও মো. সোহেল রানা এবং এটুআই প্রোগ্রাম এর ইনোভেশন ল্যাবকে ধন্যবাদ জানান এই সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করার জন্যে। তিনি আশা রাখেন যে এই সিস্টেমটি জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যবহারের সফলতা বিচার করে পরবর্তীতে অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংক্রান্ত অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিগণ এবং এটুআই প্রোগ্রামের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক