ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

মো. ওমর ফারুক : প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রযুক্তির কল্যাণে আজকে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি আর দেশে বসেই বিদেশের নামি দামি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতে পারছি। সেই সঙ্গে খুব ভালো মানের সম্মানী ও পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, আপনি ঠিক ধরেছেন, বলছি ফ্রিল্যান্সিং এর কথা।

ফ্রিল্যান্সিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত পেশা, যার মাধ্যমে একজন দক্ষ লোক যেকোনো জায়গায় থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। আমাদের শিক্ষিত সমাজ অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ৬-৭ বছর আগেও তেমন দেখেনি, কিন্তু বর্তমানে এখন এটা সম্মানজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞান থাকলেই যে কেউ তৈরি করে নিতে পারে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

আপনি যদি অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা করে থাকেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও খুব ভালো মানের যোগ্যতা এবং ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা। এই বিষয়গুলো নিয়ে একটু ভালোভাবে আলোচনা করা যাক।

কঠোর পরিশ্রম: ‘পরিশ্রম সাফল্যর চাবিকাঠি’ এ কথাটা আমাদের সবার জানা আছে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনাকে ঠিক এই কাজটিই করতে হবে। মানে সাফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রম। ফ্রিল্যান্সিংয়ে দ্বিতীয় সুযোগ বলে কিছু নেই, একটু আলসেমির কারণে কাজ একটু খারাপ হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ অনেক অনেক অভিজ্ঞ লোক বসে রয়েছে নির্ভুলভাবে কাজ করে দেওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে আপনার ক্লায়েন্ট অভিজ্ঞতাদের মধ্যে থেকে কাউকে সুযোগ দিবে, কারণ আপনি তার আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। আবার মাঝে মাঝে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে টানা ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এই ধরনের চাপ এর মধ্যে আপনার কাজ করার মনোবল থাকতে হবে।

যোগ্যতা: আপনার যোগ্যতা যদি ১০০ তে ৯৯ হয় তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যোগ্য লোক নন। আপনার যোগ্যতা ১০০ তে ১০০ হতেই হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এ ক্লায়েন্টরা ‘মনে হয়’ ‘পারব’- এ ধরনের মতবাদে বিশ্বাসী নয়। আপনার কাছে তারা দুটো উত্তর শুনতে চাইবে তা হল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’। হ্যাঁ উত্তর আপনি তখনি দিতে পারবেন যখন আপনার যোগ্যতা ১০০ তে ১০০ থাকবে এবং আপনি আত্মবিশ্বাসী হবেন। ব্যক্তিগত মত থেকে যোগ্যতা প্রসঙ্গে যদি বলতে যাই তাহলে বলতে হবে কম্পিউটারের সঙ্গে জড়িত এ রকম কিছু সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করাই ভালো। কারণ এতে করে আপনি আপনার মেধা সারা বিশ্বে সহজে তুলে ধরতে পারবেন। আমাদের দেশে আনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে আপনি কম্পিউটার বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ রাখেন এ রকম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল, ড্যাফোডিল ইন্টান্যাশনাল একাডেমি। এখানকার কোর্সগুলো অনলাইন ক্যারিয়ার গড়ার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি। তবে অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে একটি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে, কিন্তু চলতে হবে আপনার নিজেই। এছাড়া গুগল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সার্চ আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

ইংরেজিতে দক্ষতা: ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিংয়ে বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট বিদেশি সেহেতু তাদের সঙ্গে ইংরেজিতেই কথোপকথন করতে হবে। ক্লয়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলে আপনি কোনো কাজই সফলভাবে করতে পারবেন না কারণ তার কাজের দরকারি জিনিসগুলো বুঝতে পারবেন না। ইংরেজিতে কথা বলতে ও লিখতে দুটোতেই পারদর্শী হতে হবে।

সাধারণত একজন সফল ফ্রিল্যান্সার একটা সময় পরে উদ্যোক্তা হতে পারে কারণ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে যেয়ে, একজন উদোক্তা হওয়ার জন্য যে সকল বৈশিষ্ট্য লাগে তা তার মধ্যে তৈরি হয়ে যার। তাই একজন দক্ষ লোক ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ খুব সহজে তৈরি করে নিতে পারে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.