ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকারি মার্কেটপ্লেস ও অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আসছে

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সরকারি কাজ করার সুযোগ দিতে একটি মার্কেটপ্লেস তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার তৈরির অনলাইনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

শুরুতে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নিজেদের কার্যক্রম ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করাতে এই অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করবে। এরপর অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে এই প্লাটফর্মে যুক্ত করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ হতেই এই কার্যক্রমের শুরু হবে। ফলে সরকারের বিভিন্ন কাজ যেগুলো ফ্রিল্যান্সাররা করতে পারেন তাতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন তারা।

তিনি জানান, এখন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ আউটসোর্সিং করা হয়, তবে সেটা ম্যানুয়ালি হচ্ছে। এটিকে কীভাবে অনলাইনে করা যায় সেটি নিয়ে এখন কাজ করা হবে। ভার্চুয়াল অ্যাসিসট্যান্সে অনেক কাজেই যুক্ত হতে পারবেন ফ্রিল্যান্সাররা। ‘এতে একদিকে যেমন সরকারে খরচ কমবে অন্যদিকে অনিয়ম, দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় একটি খাতও তৈরি হবে’ বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে এই প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে, এটি সরকারের খুব প্রয়োজন।

এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কিছু কাজ পরীক্ষামূলকভাবে স্থানীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারকে দিয়ে করানো হয়েছিলো উল্লেখ করে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা যেন নতুন নতুন স্কিলে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন তার জন্য বিভিন্ন পর্যাযের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। ‘রিস্কিলিং, আপস্কিলিং এবং নতুন প্রযুক্তিতে স্কিলিং করে তাদের প্রস্তুত রাখা হবে। দেশের সব এলাকায় যেন এই প্রশিক্ষণ সুবিধা দেয়া যায় সেজন্য লার্নিং-আর্নিং ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং, সি পাওয়ার এবং শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর সেন্টার বিভাগ হতে জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’ বলছিলেন তিনি।

এদিকে রোবাবর  ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির অনলাইন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সরকারের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরির প্রশিক্ষণ চলবে অনলাইনে।

                                                          তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

অনলাইন মাধ্যমে শুরুতে ওয়েব ডেভেলমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইনিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।  ১৫টি জেলায় প্রতিটি বিষয়ে ২০০ ঘণ্টা করে এই প্রশিক্ষণ চলবে।

অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি পরবর্তী পৃথিবীতে তথ্যপ্রযুক্তি ফ্রিল্যান্সারদের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে । করোনার কারণে এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হাওয়ায় অনলাইন ক্লাসই  ভবিষ্যত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের যোগ্য করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনলাইনেই প্রশিক্ষণ নিতে ১ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। তবে ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা স্মার্টফোন ও উচ্চগতির নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এমন হিসেবে ১৫টি ভাগে ভাগ করে দেশের ৪৯২ জায়গায় ৪০ হাজার জন পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রকল্পে কাজ করছে ৩৯টি দেশী কোম্পানি।

তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন  প্রকল্পের পরিচালক মোঃ আখতার মামুন, প্রশিক্ষণ পরিকল্পনাকারী শফিউল আলম।

 

-সিনিউজভয়েস/ডেক্স/১৭মে/২০

Please Share This Post.