ফোরজি চালু নিয়ে হতাশ সংশ্লিষ্টরা

বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও দেশে চতুর্থ প্রজন্মের টেলিকম সেবা ফোরজি চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে। এর কারণ জানতে চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। টেলিযোগাযোগ বিভাগ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে মঙ্গলবার এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।গত দেড় বছর ধরে নানা বৈঠকে দেশে ফোরজি চালুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের বলছেন জয়। চলতি বছরের শুরু থেকে তাগাদা দিচ্ছেন তিনি। এতদিন বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করলেও সেটি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

গত মে মাসের প্রথমভাগে এ নীতিমালা টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে জমা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আর চলতি মাসের শুরুতে টেলিযোগাযোগ বিভাগ ওই নীতিমালার ওপর জনগণের মতামত চেয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।ফোরজি চালুর পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা যত দ্রুত সম্ভব অপারেটরদেরকে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বৈঠকে আবারও নির্দেশ দিয়েছেন।বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল ফোন সেবার গুণগত মান বিষয়েও জয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপারেটরগুলোর হাতে স্পেকট্রাম অনেক কম থাকায় যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে বাড়তি স্পেকট্রাম দিয়ে গুণগত সেবা বৃদ্ধির জন্যও তাগাদা দেন তিনি।

বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুসারে, ফোরজির লাইসেন্স দেওয়ার পরপরই স্পেকট্রাম বরাদ্দে নিলামের আয়োজন করা হবে। এদিকে ফোরজির নীতিমালায় ইন্টারনেট সেবার গতি সর্বনিন্ম ১০০ এমবিপিএস থেকে এক গিগাবিট পার সেকেন্ড নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে কমিশন। সেটি কার্যকর হলে সেবার মান অনেক ভালো হবে। এর জন্য দরকার স্পেকট্রাম ও এর ব্যবহারের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা। ইতিমধ্যে বড় তিনটি অপারেটরই ফোরজি নিয়ে তাদের নেটওয়ার্কে নানা পরীক্ষা চালিয়েছেন।

এগুলোতে ৫০ থেকে ৯০ এমবিপিএস গতির ডেটা ডাউনলোড করা গেছে।লাইসেন্সের খসড়ায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স নেওয়ার প্রথম নয় মাসের মধ্যে সকল বড় শহরে ফোরজির সেবা নিয়ে যেতে হবে। আর ১৮ মাসের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে জেলা শহরগুলোতেও।পাঁচ বছরের মধ্যে সকল উপজেলা, মহাসকড় ও রেললাইনসহ লোকজনের যাতায়াতের স্থানে ফোরজি সেবা থাকতে হবে।যেসব এলাকায় অপারেটরগুলো এ সেবা চালু করবে, সেখানে কোনো অবস্থায় বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া তা বন্ধ করা যাবে না।

 

 

-টেকশহর

Please Share This Post.