‘ফোকাস করব এমন একটি এরিয়া যেটি আমি পারি’

আবু দাউদ খান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনরুট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের। স্কুল জীবন শেষ করেন ঝিনাইদাহ ক্যাডেট কলেজ থেকে তারপর ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০ বছরের কর্মজীবনে টেলিকম, জাতীয় ও অান্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

২০০১ সালে ব্রিটিশ অামেরিকান টোব্যাকো দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। ২০০৭ সালে সনি এরিকসন মোবাইল কমিউনিকেশন ইন্টারন্যাশনালে এবং তারপর নকিয়া ইমার্জিং এশিয়ায় হেড অব সেলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে নকিয়া ইমার্জিং এশিয়া লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার হন। তিনি নোকিয়ার সবচেয়ে কম বয়সী কান্ট্রি ম্যানেজার ছিলেন। এই সময় বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং নেপালের অঞ্চলের ব্যবসা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নোকিয়া ফোনে যাতে অামাদের দেশীয় অ্যাপ ব্যবহার করা যায় তার জন্য প্রোগ্রামার এবং ডেভলাপারদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। ডেইলি স্টার এপ, ওয়েদার ফোরকাস্ট, পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার এপ স্কোরবোর্ড ইত্যাদি সেসব কাজের মধ্যে অন্যতম।

এরপর ২০০৭-৮ সালে তার পার্টনারসহ চালু করেন এনরুট নামের প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কাজ করত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং নিয়ে। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি প্রবেশ করেন ২০১২ সালে। আর থেমে থাকেন নি তিনি। এখানে প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন সেবা শুরু করেন তিনি, যাদের মধ্যে অন্যতম হলই-লার্নিং প্লাটফর্ম সুদক্ষ, দেশের সর্বস্তরে গুনগত শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেয়াই যার উদ্দেশ্য।

এবারের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০২০ নির্বাচনে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে তার পরিকল্পনা এবং দেশের সফটওয়্যার খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা হয় সিনিউজের সঙ্গে।

আবু দাউদ খান বলেন, আমাদের দেশে আইটিতে কর্মদক্ষ হাতের বড় অভাব। যেমন, কোনো স্থানে দরকার ১০০ জন দক্ষ আইটি প্রফেসনাল কিন্তু রয়েছে মাত্র ৪০ জন। আবার যে ৪০ জন আছে তারাও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কতটুকু স্ট্যান্ডার্ড সেটিও ভাববার বিষয়।

এই উদ্যোক্তার মতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা গেলে এর সমাধান সম্ভব। আর তা করতে গেলে একটি প্যানেল আবশ্যিক। ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি তাই আইটি সেক্টর এর জন্য দক্ষ হিউম্যান রিসোর্স তৈরি করা।

তিনি বলেন, বেসিসে যেমন কিছু ভাল দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে বেশ কিছু ইম্প্রুভমেন্টের জায়গা। তবে আমি ফোকাস করব এমন একটি এরিয়া যেটি আমি পারি।

‘আমি যেহেতু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমি দেখি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যুগের সঙ্গে একটু পিছিয়ে রয়েছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ফ্রেশার হিসেবে আসে তারা যখন একটু অ্যাডভান্স লেভেলে কাজ করতে যায় তখন তাদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করে। যদিও তারা কিন্তু পড়াশুনা বা মেধায় পারদর্শী। কারণ সমস্যা থাকছে তাদের কারিকুলামে। আমরা যদি ইন্ডাস্ট্রি আর অ্যাকাডেমির ভেতরে একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে পারি তবে এ সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে।

বেসিসে নির্বাচনে নির্বাচিত হলে আমি এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে তা হলো- আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য হিউম্যান রিসোর্স ক্যাপাসিটি তৈরি করা। আমি চাই বেসিস,সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে । যোগ করেন তিনি।

‘এরজন্য বেসিসকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের পলিসি নিয়ে কাজ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে। অনলাইনে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রের পরিসীমা বৃদ্ধি করতে হবে। কন্টেন্ট বাংলায় দিতে হবে। কারণ অনেক কন্টেন্ট রয়েছে ইংরেজিতে, যা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে যায় কিছু ক্ষেত্রে। যদি তা বাংলায় তৈরি করা যায় তাহলে তা তাদের বোধগম্য হবে। এসব ক্ষেত্রে অনেক কাজ করার জায়গা রয়েছে আমার বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, আরও কিছু সমস্যা দেখা যায় আমাদের দেশের সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর। বিশেষ করে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান হিমশিম খাচ্ছে যে কিভাবে এমপ্লয়মেন্ট দিতে হয়, ছুটির পলিসি কী হওয়া উচিত, কোনটি করলে আইনের বিপক্ষে চলে যায়, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায় কীভাবে। হিসেব নিকাশের ক্ষেত্রেও তারা সমস্যায় পড়ে। অর্থাৎ একটি আইটি ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু আইটি জানলে হয় না, তাকে জানতে হয় এইচআর, জানতে হয় হিসেব নিকাশ, জানতে হয় কীভাবে পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে হয়। এ জায়গাগুলো নিয়েও ভাবছি আমি। এক কথায়, আমি বেসিস মেম্বারদের পণ্যের মার্কেটিং বা ব্র্যান্ডিং, প্রতিষ্ঠানের এইচআর ও অ্যাকাউন্টিংয়েও সাহায্য করতে চাই।

সিনিউজভয়স//তুষার

Please Share This Post.