ফের শিরোপা জিতল ওয়ালটন

ওয়ালটন গ্রুপ ২১৭ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরই ম্যাচ একরকম শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফাইনালে এ লক্ষ্য বেক্সিমকোর পক্ষে ছোঁয়া বেশ কঠিনই। তারা যেতে পারেনি ধারেকাছেও! ৮ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৫৬ রান। ৬০ রানের বড় জয়ে মার্সেল সপ্তম টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়ালটন।

টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেটের শিরোপাটাকে একরকম নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে ওয়ালটন। উদয় হাকিমের নেতৃত্বাধীন ওয়ালটন জিতল টানা দ্বিতীয় শিরোপা। সব মিলিয়ে সাত আসরের তিনবারই চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন।

এবারের শিরোপাকে গত মাসে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং দেশের ইলেক্ট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল শিল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা আলহাজ্ব এসএম নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছে টিম ওয়ালটন।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের চার নম্বর মাঠে শুক্রবার সকালে ফাইনালে ওয়ালটনের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা সাহেল মিয়াঁ। ওপেনার এই ব্যাটসম্যান মাত্র ৪০ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলেন ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তার সঙ্গে ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পথে ১৯ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ২৫ রান করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

এই দুজনের দুর্দান্ত শুরুর পর শেষ দিকে ঝড় তোলেন সাজ্জাদ হোসেন শাকিল ও রাহাতুল ইসলাম নাজেল। ২০ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন শাকিল। আর নাজেল মাত্র ১০ বলে ৪টি ছক্কা ও একটি চারে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া জনি সোমের ১৭ ও আবদুল্লাহ রজিনের ৯ রানের সুবাদে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রানের বড় পুঁজি গড়ে ওয়ালটন। বেক্সিমকোর মহিবুল, ওসমান গনি ও সেলিম নেওয়াজ নেন একটি করে উইকেট।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় ওয়ালটনের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বেক্সিমকোর ব্যাটসম্যানরা। ১০ ওভারে মাত্র ৬০ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে তারা। সাত নম্বরে নামা রসিব বনিকের ৫৯ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। বনিকের ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও একটি চারের মার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন রকিবুল হাসান।

ওয়ালটনের পক্ষে জনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। মোট ১৬ উইকেট ও দুইশ’র বেশি রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জিতেছেন জনি। অধিনায়ক উদয় হাকিম ১ ওভারে ৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। এ ছাড়া মামুন ১৬ রানে একটি ও সাহেল ১৫ রানে নেন একটি উইকেট।

উদয় হাকিম উইকেটটা নিয়েছেন ইনিংসের শেষ বলে। তাতে শেষ হয়েছে ম্যাচ, নিশ্চিত হয়েছে ওয়ালটনের টানা দ্বিতীয় শিরোপা। উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে ওয়ালটনের খেলোয়াড়রা। ডাগ আউট থেকে মাঠে ছুটে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন দলের ম্যানেজার এসএম জাহিদ হাসান, খেলোয়াড় ফিরোজ আলম, মিলটন আহমেদ, জাহিদুল, মিজানুররা।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে ওয়ালটন গ্রুপ। আর রানার-আপ বেক্সিমকো পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মার্সেলের অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর (হেড অব মার্কেটিং) ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন।

এসিমস-এর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় গত ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। ১৬টি দল চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ওঠে কোয়ার্টার ফাইনালে। যেখান থেকে চারটি দল আসে সেমিফাইনালে। শুক্রবার দুই ফাইনালিস্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা নামল।

এই টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর ছিল ওয়ালটন গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড মার্সেল। আর পাওয়ার স্পন্সর এনার্জিপ্যাক। ফলে টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয় ‘মার্সেল সপ্তম টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০১৭, পাওয়ার্ড বাই এনার্জিপ্যাক’।

টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম। আর বেভারেজ পার্টনার নেসলে বাংলাদেশ।

এক নজরে মার্সেল সপ্তম টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট
চ্যাম্পিয়ন : ওয়ালটন গ্রুপ
রানার-আপ : বেক্সিমকো টেক্সটাইল
ফেয়ার প্লে : ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাহেল মিয়াঁ (ওয়ালটন)
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট : জনি সোম (ওয়ালটন)


– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.