ফুডপান্ডায় সেহরি খান

ফুডপান্ডা! নামটা বড়ই অদ্ভুত। আক্ষরিক বাংলা করলে দাঁড়াতো খাবার পান্ডা বা খাদ্য পান্ডা। মানে খাবার পান্ডা।  কিন্তু আসল ঘটনা এইরকম না। ফুডপান্ডা নামটা শুনলেই আমাদের মাথায় এইরকম কিছুই আসে না। আসে অন্যকিছু। মাথায় আসে অনলাইনে খাবার অর্ডার দেয়ার একটা চমৎকার সার্ভিসের কথা। ঘরে বসে মনের মতো যা খুশি অর্ডার দাও। এরপর প্লেট-কাঁটা চামচ নিয়ে অপেক্ষা করো। ব্যাস কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার হাজির! এরপর ঝাঁপিয়ে পড়ো।

পৃথিবীর বিখ্যাত এই অনলাইন ভিত্তিক হোম ডেলিভারি চেইনটি এখন বাংলাদেশের ভোজন রসিকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

বেশ কয়েকবছর ধরেই বিষয়টা দেখা যাচ্ছে দেশে। রমজান মাসে মাঝরাতে উঠে একদল লোক রেস্টুরেন্টে ছুটছে। আর কিছুই নয়, সেহরি খেতে। বিষয়টা দুই কারণে দারুণ। এখন চলছে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। একসঙ্গে হ্যাংআউট করার যুগ। একসঙ্গে পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধব মিলে কোথাও গিয়ে খাওয়ার ধুম। সেহরি নাইট একসঙ্গে সেই কাজটাও করছে সঙ্গে সেহরি বিষয়টাকে ইফতারের মতো একটা সামাজিকতায় রূপ দিচ্ছে।

একসঙ্গে ইফতার বেশ পুরো ঐতিহ্য। সেই সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে সেহরি। একসঙ্গে সেহরি। সেহরি বিষয়টা আস্তে একা একা ঘরে বসে খাওয়ার রীতি থেকে বেরিয়ে একটা নতুন আধুনিক কালচারে পরিণত হচ্ছে। রাতে সেহরি খেতে বাইরে যাওয়ার আরেকটা মজা হলো রাতের শহর দেখা। রাতের শহর কিন্তু আসলেই অদ্ভুত। যারা দেখেনি তারা সেটা জানেই না।

রাতে পরিবার-বন্ধু-বান্ধব মিলে সেহরি খাওয়ার ইচ্ছা অনেকের থাকলেও কোথায় কোথায় সেটা হয়, কিভাবে যেতে হবে, কখন গেলে সিট পাওয়া যাবে এইসব নিয়ে এখনো বিষয়টা অনেকের কাছেই ক্লিয়ার না। তাই এইবার সেই বিখ্যাত ফুডপান্ডা-ই বিষয়টাকে ইন্টারেস্টিং করার জন্য আয়োজন করেছে ‘সেহরি খান’ নামক একটি সেহরি পার্টির। একজায়গায় পাওয়া যাবে তাদের এনলিস্টেড অনেকগুলো রেস্টুরেন্টকে। থাকছে সুবিশাল আয়োজন। ফলে গাড়ি পার্কিং, কোথায় বসবো, জায়গা পাওয়া যাবে কিনা, কতক্ষণ আগে যেতে এইসব নিয়ে আর কোনো মাথা ঘামাতে হবে না। জাস্ট সেহরির নির্দিষ্ট আগে গিয়ে পৌঁছালেই হলো। এরপর পছন্দমতো খাবারের দোকানে গিয়ে পছন্দমতো খাবার অর্ডার দিন, খেয়ে ঢেকুর তুলে বিল মিটিয়ে বাসায় চলে যান।

অনেকের জন্য রাত ২টা ৩টা উঠে বাইরে যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না তাই সেহরি খান শুরু হচ্ছে রাত সাড়ে নয়টা থেকে। চলবে ভোর ৪টা পর্যন্ত অর্থাৎ আযান দেয়ার আগ পর্যন্ত। সেখানে যাবেন, গল্প করবেন, আলোচনা করবেন, সমালোচনা করবেন, চাইলে দুইতিনজন মিলে ছোটখাটো টক শোও শুরু করে দিতে পারেন। দর্শক পাবেন। আমাদের দেশে দর্শকের অভাব নেই। দেশভর্তি সবাই দর্শক। আলোচনার বিষয়েরও কোনো অভাব নেই। এ বছর আমেরিকায় নির্বাচন। হিলারি না ট্রাম্প। আমাদের তো বরাবরই বৈদেশিক রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ বেশি। এছাড়া চলছে কোপা আমেরিকা ফুডবল, শুরু হয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবল। আলোচনার বিষয় হিসেবে আছে আমাদের কাটার মুস্তাফিজ। সামনে বাজেট। চাইলে বাজেট নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনাও করতে পারেন। এছাড়া ব্যক্তিগত সমস্যাতো আছেই। কার ইনক্রিমেন্ট হচ্ছে না, কার প্রমোশন হচ্ছে না, কেনো হচ্ছে না। সমস্যা কোথায়? আছে জ্যাম। সামনে ঈদ। ঈদের কেনাকাটা আছে। আছে এইরকম হাজার হাজার ইস্যু। ব্যাস, রাত দশটার দিকে ঢুকে আলোচনা চালাতে চালাতে দেখবেন কখন সেহরি সময় চলে এসেছে। এরপর খেয়ে দেয়ে বাসায় গিয়ে ঘুম। আহা! জীবন কি সুন্দর।

ভালো কথা, এন্ট্রি কিন্তু ফ্রি না। আছে জনপ্রতি একশ টাকার নামমাত্র মূল্যের এন্ট্রি ফি। এরপর যার যার খাবারের বিল তার তার। আছে একসাথে হাজার পাঁচেক গাড়ি পার্কিং করার সুবিধা। সেহরি খান চলবে টানা দুই রাত। ১৬, ১৭ জুন দিবাগত রাত।
মোটকথা আয়োজন বিশাল। এখন আপনি যদি ফুড লাভার’স হন, আড্ডা পছন্দ করেন, তাহলেই হয়েছে। আপনাকে আসতেই হবে ‘সেহরি খান’-এ।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.