প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের আয়োজন

আগামী দিনগুলোতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই হবে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। আর এ জন্য দরকার বিশ্বমানের কম্পিউটার প্রোগ্রামার। বিশ্বমানের প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি ভাষার মতো ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ নিজেকে দক্ষ করে তুলতে হবে।

দেশের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের এ আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গুণীজনেরা। যশোর, খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলে অনুষ্ঠিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বে এই আহবান জানানো হয়।

৯, ১০ ও ১২ মার্চ যথাক্রমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কুইজ ও প্র্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলমগীর, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এম এম এ হাশেম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়াত জাহান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রফিকুল আলম বেগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব বনমালী ভৌমিক প্রমুখ।

প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা আইসিটি কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে যশোর, খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলের বিজয়ী মোট ২০৩ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় তিন ক্যাটাগরিতে কুইজ ও দুই ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, দেশের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে জনপ্রিয় ও তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ তৃতীয়বারের মতো জাতীয় হাইস্কুল আইসিটি কুইজ ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। ১৬টি আঞ্চলিক ও ৩টি উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ীরা ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। এর পর ধারাবাহিক নির্বাচনের মাধ্যমে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশের সদস্যদের নির্বাচন করা হবে। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) প্রতিযোগিতার বাস্তবায়ন সহযোগী হিসাবে এবং কোড মার্শাল জাজিং প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ স্থানীয় আয়োজক হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছে।

আগামী ১৩ মার্চ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাক্রমে পাবনা ও দিনাজপুর অঞ্চলের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

এক নজরে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭

মোট প্রতিযোগিতা : ১৯টি
আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা : ১৬টি
উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা : ৩টি

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার অঞ্চলসমূহ : রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্রগাম, বরিশাল, চট্রগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, যশোর ও ময়মনসিংহ।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ভেন্যু সমূহ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কুমিল্লা সেনানিবাস), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

উপজেলাসমূহ : আনোয়ারা-চট্রগ্রাম, সিংড়া-নাটোর, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর।

প্রতিযোগিতার সময়সূচি www.nhspc.org ওয়েবসাইট ও www.facebook.com/nhspcbd ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.