প্রযুক্তির নতুন তরঙ্গ

মনে হচ্ছে নতুন আরেকটা তরঙ্গে গা ভাসাতে যাচ্ছে কম্পিউটিং। অনেক গবেষক আর প্রযুক্তিবিদ মনে করছেন, এ তরঙ্গের ভিত্তি হবে এমন সব চৌকশ যন্ত্র আর সফটঅয়্যার যেগুলো মানুষের ব্যবসায়িক, বৈজ্ঞানিক বা সরকারি কাজকর্মকে আরো স্বয়ংক্রিয় করবে এবং আগের চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এসব প্রযুক্তিবিদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মাইকেল স্টোনব্রেকার, ডাটাবেস রিসার্চের ক্ষেত্রে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব। বর্তমান সময়ে অত্যন্ত দ্রুতগতির সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক ডাটাবেসের উৎপত্তি ঘটছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন সব সফটঅয়্যার কম্পিউটার হার্ডঅয়্যারের ক্ষেত্রে নব নব উদ্ভাবনের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের বিভিন্ন উৎস থেকে আসা উপাত্তের মধ্যে নতুন সূত্র খুঁজতে সাহায্য করবে। ওয়েব ব্রাউজিং ট্রেইল, সেন্সর ডাটা, জেনেটিক টেস্টিং এবং স্টক ট্রেডিংয়ের মতো বহুবিচিত্র সব উৎস থেকে বিপুল সংখ্যায় জন্ম নেয়া এসব ডাটার মধ্যে নতুন কার্যকারণ আর যোগসূত্র খুঁজবে এসব ডাটাবেস।

মি. স্টোনব্রেকার নিজেই ‘ভল্টডিবি’ এবং ‘প্যারাডাইমফোর’ নামে দুটো ডাটা-ড্রিভেন প্রতিষ্ঠানের কান্ডারি এখন। এমআইটি-র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয় গবেষণাগারের সংযুক্ত অধ্যাপকও তিনি। তাঁর মতে, নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে আশাবাদী হবার যথেষ্ট কারণ আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টেলিজেন্ট সেন্সরের ভুবনে ঘটে চলা গবেষণাগুলোও মি, স্টোনব্রেকারের মত মানুষদের আশা জোগাচ্ছে। অল্পদামী এসব সেন্সর পরীক্ষামূলক চালকবিহীন গাড়ি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোনের মত নতুন নতুন উদ্ভাবনের জন্য খুবই দরকারি। মেশিন লারনিং অ্যালগোরিদমের মত বুদ্ধিমান সফটঅয়্যার উদীয়মান এসব ‘বুদ্ধিমান’ প্রযুক্তিতে শক্তি জোগাবে। এর দুটো উদাহরণ হাতে হাতেই দেয়া যায়, আমেরিকার জনপ্রিয় কুইজ গেম জিওপার্ডির বিজয়ী কম্পিউটার ওয়াটসন এবং নেটফ্লিক্সে প্রদত্ত মুভি রিকেমেন্ডশন। এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাতে পারে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, জন ক্লাইবার্গ এ সম্বন্ধে বলেন, ‘প্রযুক্তি পাইপালাইনের সবগুলো অংশই যেন হঠাৎ করে একই সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এভাবেই নতুন নতুন সব অ্যাপ্লিকেশন এবং তাদের ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর পেছনে আসলে আছে প্রযুক্তির বিবর্তন।

প্রযুক্তির-নতুন-তরঙ্গ

পল সাফো নামে একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই প্রক্রিয়াটিকে ‘পাংচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়া’ নামে বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানের একটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এ মতবাদের প্রবক্তা স্টিফেন জে গোউল্ড ও নাইলস এলরিজের মতে, বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতি অনেক সময় আকস্মিক ঝলক বা উৎসারণের spurts) মত করে আবির্ভুত হতে পারে। তবে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান বড় কোনো উদ্ভাবনের দেখা পেতে অনেক সময় বেশ লম্বা একটা সময় লেগে যায়। মি. সাফোর মতে, ‘এমনকি সিলিকন ভ্যালিতেও, বড় কোনো সফলতায় রূপ নিতে বেশির ভাগ প্রযুক্তিরই বিশ বাইশ বছর লেগে যায়।’ ইন্টারনেটকে প্রযুক্তির বিবর্তনবাদী অগ্রগতি একইসঙ্গে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। ১৯৬৯ সালে মাত্র চারটি কম্পিউটার ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, আজ একশো কোটিরও বেশি কম্পিউটার এর সঙ্গে যুক্ত। প্রথমদিকে কম্পিউটারের সঙ্গে কম্পিউটার জুড়ে দেবার এ ধারণা খুব বেশি মানুষের কাছে কল্কে পায়নি। তবে ১৯৯০-র দশকের কোনো এক সময় ৪০ লাখ থেকে ৮০ লাখ, তারপর ১ কোটি থেকে ২ কোটি, ৫ কোটি, ১০ কোটি এভাবে করে বাড়তে থাকে বিশ্ববিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক, এবং মানুষ সবিস্ময়ে খেয়াল করে, আরে, এ তো বিপ্লবের মত কিছু একটা ঘটছে!

মি. স্টোনব্রেকার মনে করেন, ভবিষ্যতে যে হার্ডঅয়্যার কম্পোনেন্টটির মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে সেটি হচ্ছে সলিড স্টেট মেমোরি, এর পারফরমেন্স যেমন দ্রুত বাড়ছে, দামও তেমনি কমছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে বড় বড় সব কম্পিউটার সিস্টেমেও সলিড স্টেট মেমোরি ব্যবহার করার মাধ্যমে ডিস্ক ড্রাইভে সংরক্ষণের জন্য ডাটাকে পাঠানোর বদলে মেমোরির মধ্যেই বড় আকারের ডাটাবেসকে ধরে রাখা যাবে। প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ৫০ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে ডাটাকে হ্যান্ডলিং করা যায় বলে মত দেন মি. স্টোনব্রেকার। ‘মেমোরিই হচ্ছে নতুন ডিস্ক’, বলেন তিনি। ‘কাজেই আমাদের কাজ হবে নতুন এই প্রযুক্তি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাটি আদায় করে নেয়া

-সিনিউজভয়েস

 

 

Please Share This Post.