প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহনে ন্যাশনাল পিস কার্নিভাল অনুষ্ঠিত

তরুণরা সমাজিক সমস্যা মোকাবেলা করে শান্তি-সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যার জন্য তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ভালো কাজের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ ভালো কিছু শেখার জন্য আগ্রহ থাকাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আগ্রহের সাথে সাফল্য অর্জনে দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে সমস্যা সমাধানের পথ। দেশে তথা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে “ন্যাশনাল পিস কার্নিভাল ২০১৯”-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

শুক্রবার দিনব্যাপী রাজধানীর বেইলে রোডে জাতীয় মহিলা পরিষদের ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তন’-এ তরুণদের নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সম্প্রীতি প্রকল্পের আওতায় ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা প্রায় ২০০ জন তরুণ শিক্ষার্থী কার্নিভালে অংশ নেয়। এই আনন্দ আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল ইয়ুথ ভিলেজ বিডি এবং সিমুড ইভেন্টস।

সেশন ভিত্তিক তরুণদের নিয়ে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে আলোচনায় বিভিন্ন পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীদের করনীয়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় চিন্তাধারার বিকাশ, কুইজ, মতবিনিময়, বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কী করনীয় সে বিষয়ে তাদের চিন্তা ও মতামত প্রদান করা হয়। এ সময় সামাজিক সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য তরুণদের বুদ্ধিভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রথম তিনজনকে দেওয়া হয় পুরস্কার।

আলোচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী, দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের পরিচালক নাসিমা আক্তার জলি,  ইগলু আইসক্রিমের মার্কেটিং প্রধান সুরাইয়া সিদ্দিকা, উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আক্তার নিশা, সেভ দ্যা চিলড্রেনের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, মানুষের জন্য ফাঊন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহরিয়ার মান্নান, তরুন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ খান, স্মার্ট টেকনলোজিস লিমিটেডের এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মিরশাদ হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে কিভাবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। যার মাধ্যমে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিহত করা যাবে। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সহিংস উগ্রবাদ মুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ডঃ ফারানাজ ফিরোজ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর খন্দকার রেজাউনুল করিম, সিমুডের সিইও ডঃ জাহিদুর রশিদ সুমন, গ্রুপ কিউএ এর মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান শহীদুল ইসলামসহ স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের পরিচালক এবং কার্নিভাল চেয়ার মুজাহিদ আল বেরুনি সুজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আগত বক্তারা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে বদলে যাওয়া তরুনদের স্বদিচ্ছা, আগ্রহ, সব ক্ষেত্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সঠিক দিক নির্দেশনা ইত্যাদির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অতিথিরা ওয়াইসিবির এমন উদ্যোগ ও অংশগ্রহন কারীদের স্বতস্ফুর্তার ভুয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় ওয়াইসিবির সভাপতি আরিফিন রহমান হিমেল অনুষ্ঠানের সহযোগী সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এরকম আরো উদ্যোগ গ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী কার্নিভালে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় ন্যাশনাল পিস কার্নিভাল ২০১৯।

-সিনিউজভয়েস/ডেস্ক/১৯জুলাই/১৯

Please Share This Post.