প্রযুক্তিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীতে এ্যাপটেক বাংলাদেশ ও এডিএন এডু সার্ভিস

‘দক্ষ হোন জীবন পাল্টে যাবে’ এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীতে কাজ করছে বিশ্বব্যাপী আইটি প্রশিক্ষনে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান এ্যাপটেক ইন্টারন্যাশানাল ও এডিএন এডু সার্ভিসেস লিমিটেড।

এডিএন এডু সার্ভিস ও এ্যাপটেক বাংলাদেশ কর্তৃক বৃহস্পতিবার বেসিস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এডিএন এডু সার্ভিস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কান্তি সরকার এই তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এপটেক ইন্টারন্যাশানালের সিনিয়র ম্যানেজার সোমশুভ্র বকশী।

বক্তব্যে তপন কান্তি সরকার বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়িক উন্নয়ন বা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আজ ব্যবসায়িক কাজে প্রযুক্তির প্রয়োগ অবশ্যম্ভাবি। বাংলাদেশ একটি বিপুল সম্ভাবনার দেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে। এর মধ্যে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী-পরুষ আছে।

তিনি আরো বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি কর্মউপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা (ইন্ডাষ্টির চাহিদা অনুযায়ী) প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিনত করা যায় তাহলে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে অতি সহজে পৌছাতে পারব। আমাদের আইটি ইন্ডাষ্ট্রির এখন পর্যন্তকার সীমাবদ্ধ সফলতার সবচেয়ে বড় যে কারণ, তাহলো দক্ষ জনশক্তির প্রকট অভাব। আমাদের অনেক প্রোগ্রামার আছে, কিন্তু একটু গভীরে যাওয়ার মত লোক নেই। দক্ষ সিস্টেমস্ এনালিষ্ট বা প্রোজেক্ট ম্যানেজার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দক্ষতা না থাকায় আমরা অনেক কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারি না। এর ফলশ্রুতিতেই বিদেশী কোম্পানীগুলো তাদের সফটওয়্যার আর সেবা নিয়ে ঢুকে পড়ছে।

অারো বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র ৭ লাখ। বাকি ১৫ লাখ থাকে বেকার। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তারাও রয়েছেন। প্রতি বছর এই ১৫ লাখ শ্রমশক্তি বেকারের সংখ্যা শুধু বাড়িয়েই চলেছে। এই বিপুল জনসংখ্যাকে যদি কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে যদি চাকুরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং বা উদ্যোক্তা হিসাবে তৈরী করা যায় তাহলে এই বিপুল জনগোষ্ঠী আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

সোমশুভ্র বকশী বলেন, এপটেক ইন্টারন্যাশানাল বিগত ৩১ বছর ধরে ৪০টিরও বেশী দেশে দক্ষ জনবল গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। এ্যাপটেক এর ট্রেনিং মেথডলজি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ্যাপটেকের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফট্ওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং, এরিনা মাল্টিমিডিয়া ও ইংলিশ লার্নিং-এ দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীর উদ্দেশ্যে আমরা এডিএন এডু সার্ভিসেস এর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এডিএন গ্রুপের চীফ ডিজিটাল বিজনেস ও মার্কেটিং অফিসার রুহুল্লাহ রায়হান আল-হুসাইন এবং এডিএন এডু সার্ভিসেস লিমিটেড এর বিজনেস প্রধান নুরুল আলম সোহেল।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/
Please Share This Post.