চুয়েটে হচ্ছে প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

বাংলাদেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। আগামী জুলাই প্রথম দিকে চুয়েটের ৫ একর জমিতে এ আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় সক্ষমতা যুগোপযোগী করতে এবং এ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২০১৭ সালের ৬ জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের অনুমোদন দেন।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক জানান, কয়েক বছর আগে চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় তা আটকে ছিল। সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ঐকান্তিক চেষ্টায় আমরা এসব জটিলতা কাটিয়ে উঠেছি। আশা করছি জুলাইয়ের প্রথম দিকে দেশের প্রথম এ আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৫ একর জমির উপর ১০ তলা ভবনের ৭ তলা পর্যন্ত ইনকিউবেশন ভবন তৈরি হবে। ৭ তলা ভবনটির প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৫ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে।

ইনকিউবেশন ভবন ছাড়া ৬ তলা ভিত্তিসহ ৪ তলা পর্যন্ত ২টি ডরমেটরি (১টি পুরুষ, ১টি নারী) ভবন তৈরি হবে। যার প্রতি ফ্লোরে ৫ হাজার করে দুটি ভবনে মোট ৪০ হাজার বর্গফুট স্পেস থাকবে।

এ ছাড়াও ৮ তলা ভিত্তির ৬ তলা পর্যন্ত ১টি মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন তৈরি করা হবে। যার প্রতি ফ্লোরে ৬ হাজার বর্গফুট করে মোট ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম  জানান, আমাদের দেশের তরুণরা চাকরির পেছনে ছুটছে শুধু। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস দেখাতে পারছে না। আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিখাতে উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করবো।

তিনি বলেন, চুয়েটের আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর সৃষ্টিশীল তরুণদের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। এখানে যে কেউ যেকোনো ধরনের সৃজনশীল আইডিয়া নিয়ে আসতে পারবে। এ আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রোডাক্টিভ পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করার দায়িত্ব ইনকিউবেটর সংশ্লিষ্টদের।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী, পরিশ্রমী। আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন ইনোভেশনে সহায়তা দিলে দেশের প্রযুক্তিখাতে বিপ্লব ঘটবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২৯জুন/১৯

Please Share This Post.