প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে আনতে হবে : মোস্তাফা জব্বার


‘দেশে দেড় কোটি মানুষ প্রতিবন্ধী বা ভিন্ন ভাবে সক্ষম ব্যক্তি। এদেরকে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে হবে এবং তাদেরকে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে’ বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

২১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা ২০১৮ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাবনা রয়েছে এবং এতে আইসিটির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সমতা বিধানের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মোহাম্মাদ এনামুল কবির।

প্রতিযোগিতায় প্রতিবন্ধীতার চারটি ক্যাটাগরির প্রত্যেকটি হতে সেরা ৩ জন করে সেরা ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগে সেরা তিন জন হলেন- নওগাঁ জেলার মো. আব্দুস সোবহান, চাঁদপুর জেলার আসিফ করিম পাটোয়ারী এবং লালমনিরহাট জেলার মো. মোখলেছুর রহমান। শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন জন হলেন- টাঙ্গাইল জেলার সুমা আক্তার, ময়মনসিংহ জেলার মো. আনারুল ইসলাম এবং নরসিংদীর রহিজুদ্দিন মিয়া। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগে সেরা হয়েছেন তিনজন নারী। তারা হলেন- লুৎফুন নাহার মিমু, সোমাইয়া ফেরদৌস মুন্নি এবং মেহেরুন নেসা মুন। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল (অটিস্টিক বা অটিজম) বিভাগে সেরা তিন জন হলেন- আহনাফ তাহমিত স্বপ্নিল, এসএম ফেরদৌস ইকরাম এবং অমিত সুজাউদ্দিন তুরাগ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অমিত সম্ভাবনার অধিকারী দেশের যুব প্রতিবন্ধীদের মধ্যে আইসিটি চর্চা উৎসাহিত করতে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় আইসিটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে।

এর আগে সকালে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিসির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মোহাম্মাদ এনামুল কবির, সিএআইডির হেড অব প্রোগ্রামার ইফতেখার আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হেড অব ডিপার্টমেন্ট অলোক কুমার সাহা প্রমুখ।

সারাদেশে থেকে আগত মোট ৬০ জন প্রতিযোগী ৪টি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো ক. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খ. শারীরিক প্রতিবন্ধী গ. বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং ঘ. নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক বা অটিজম)। প্রতিযোগিরা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ইন্টারনেট-এই চারটি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেক ক্যাটাগরির সেরা তিনজনকে পুরষ্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, পাটের তৈরি সামগ্রী এবং স্মার্টফোন প্রদান করা হয়।

এ প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল সিএসআইডি ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক। স্পন্সর হিসেবে ছিল ওয়ালটন কম্পিউটার ও ফিফোটেক।

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক