পেটেন্ট জালিয়াতির অভিযোগে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে হুয়াওয়ের মামলা

ঢাকা : পেটেন্ট জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও চীনের শেনঝেন প্রদেশে দু’টি পৃথক আদালতে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে গত ২৬ মে ২০১৬ মামলা করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে মামলায় প্রতিষ্ঠানটি সেলুলার কমিউনিকেশন টেকনোলজি ও স্যামসাং মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পেটেন্টসহ অন্যান্য মূল্যবান পেন্টেন্ট জালিয়াতি অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

সেলুলার নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত পেটেন্টের প্রধান ধারক হিসেবে, হুয়াওয়ে পেটেন্টের ন্যায্য, যুক্তিসম্মত ও পক্ষপাতহীন লাইসেন্সের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, যেসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ক্ষতিপূরণের দায়ে অভিযুক্ত করা উচিৎ। এ নিয়ে হুয়াওয়ের মেধাসত্ত্ব অধিকার বিভাগের প্রেসিডেন্ট ডিং জিয়ানশিং বলেন, ‘উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ শিল্পখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের একসাথে কাজ করা উচিৎ। এক্ষেত্রে, অন্যদের পেটেন্টকে সম্মান করার পাশাপাশি আমরা নিজেদের পেটেন্ট জালিয়াতির ব্যাপারে সচেতন। স্মার্টফোন শিল্পখাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহারের জন্য পেটেন্ট ব্যবহারে ক্রস লাইসেন্সিং নিয়ে অনেক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে । ক্রস লাইসেন্সিং এর মনোভাব নিয়ে বিগত বছরগুলোতে আমরা সক্রিয়ভাবে আলোচনা করেছি অন্যান্য পেটেন্ট মালিকানা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিস্বাক্ষর করেছি। এক্ষেত্রে, আমরা আমাদের প্রতিযোগীদের সাথেও ক্রস লাইসেন্সিং নিয়ে অনেকগুলো চুক্তিস্বাক্ষর করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, স্যামসাং হুয়াওয়ের গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং পেটেন্টের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। তারা আমাদের পেটেন্ট জালিয়াতি করা বন্ধ করবে ও হুয়াওয়ের থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিয়ে নিবে এবং এ শিল্পখাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হুয়াওয়ের সাথে একসাথে কাজ করবে।’

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সল্যুশন ও ডিভাইস সেবাদাতা এবং পেটেন্টের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে অনেক বিনিয়োগ করেছে। শুধুমাত্র ২০১৫ সালেই হুয়াওয়ে নতুন প্রযুক্তি, নতুন পণ্য ও ওয়্যারলেস কমিনিকেশনে ৫৯.৬ ইউয়ান (৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করেছে। যা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশ।

বিগত বছরগুলোতে হুয়াওয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের ফলে অনেক মূল্যবান পেটেন্ট করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) এর প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে হুয়াওয়ে দ্বিতীয় বছরের মতো ধারাবাহিকভবে পেটেন্ট করানোর ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে। এ বছর হুয়াওয়ে প্রকাশিত পিসিটি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে ৩ হাজার ৮৯৮ যা গত বছরের চেয়ে ৪৫৬টি বেশি।

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এলটিই, অপারেটিং সিস্টেম ও ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে ৫০ হাজার পেটেন্টের সত্ত্বাধিকার নিয়েছে।

বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য ভিজিট করুন: http://www.huawei.com

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Please Share This Post.