পার্বত্য চট্টগ্রামে ডিজিটাল সার্ভিস সিস্টেম বাস্তবায়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল সেবাসমূহকে ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএসএইড ও ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এর যৌথ উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী  বীর বাহাদুর উশৈসিং, এমপি ও সচিব মোঃ মেজবাহুল ইসলাম; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং এটুআই এর চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট (ই-গভর্নেন্স) ফরহাদ জাহিদ শেখ। এছাড়াও উভয় মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এটুআই এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সমন্বিত সিস্টেম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমে সকল সেবা প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়ের সকল সেবাকে জনবান্ধব এবং ডিজিটাল রূপান্তর করার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান। প্রস্তাবিত সিস্টেমটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সকল সেবাসমূহ জনগণের তথা সেবাগ্রহীতার একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রহণ করার বিষয়টি সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী মহোদয় তাঁর বক্তব্যে এ বিষয়ে কারিগরি এবং পরামর্শ প্রদানে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য এটুআইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং একইসাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তাকে এই কার্যক্রমে সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি যথাসময়ে পরবর্তী সকল কাজ দ্রুত ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেবাসমূহকে জনগণের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে সকলকে আহবান জানান।

এছাড়াও, পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত ‘পাড়া কেন্দ্র’ সমূহে আধুনিক প্রযুক্তি ও ইক্যুইপমেন্ট ব্যবহার করে ডিজিটাইজ করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ও দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে, উভয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ২৬টি মডেল পাড়া কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব করেন এবং অন্যান্য ‘পাড়া কেন্দ্র’ সমূহকে অতি দ্রুত ডিজিটাইজ করার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত সভায় পাড়া কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ ও পরবর্তী কার্যপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও এটূআই-এর সমন্বয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমটি ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন।

“ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ও পরিকল্পনা ল্যাব” এর ডিজাইনকৃত সিস্টেমটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেন একটি সমন্বিত ডিজিটাল সার্ভিস প্লাটফর্ম ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় তা উক্ত সভায় আলোচনা করা হয়। সভার প্রারম্ভে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মেজবাহুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন এবং ফরহাদ জাহিদ শেখ সমন্বিত ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ও পরিকল্পনার উপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। উপস্থাপনায় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিস্টেমটির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়করণ ও পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সকল মন্ত্রণালয়/ বিভাগ ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার সকল সেবাসমূহ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর নির্দেশনা ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর নেতৃত্বে এবং এটুআই এর ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর এর তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সেবা বাস্তবায়ন রোডম্যাপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত রোডম্যাপের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়নের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থাসমূহ ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাব-এ অংশগ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২০১৮ সালের ০৯ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটি এর সম্মেলন কক্ষে “ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ও পরিকল্পনা ল্যাব” বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। উক্ত কর্মশালার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থা সমূহ ২৪টি জিটুবি ও জিটুসি সেবাসমূহের ডিজিটাল সিস্টেমের ডিজাইন, প্রকিউরমেন্ট ও বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা সম্পন্ন করে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/১৭এফ/১৯

Please Share This Post.