মাইক্রোসফট-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেনের প্রয়াণ

৬৫ বছর বয়সেই পরপারে পাড়ি জমালেন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। ২০০৯ থেকে তিনি নন-হজকিন্স লিম্ফোমা-য় (এক ধরনের ক্যান্সার) ভুগছিলেন। ইতোপূর্বে রোগটির সাময়িক নিরাময় ঘটলেও সম্প্রতি এটি আবার ফিরে আসে। পল অ্যালেনের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও মাইক্রোসফট-এর আরেক প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘আমার সবচেয়ে পুরনো ও কাছের বন্ধুর প্রয়াণে আমি শোকাহত। তাকে ছাড়া পারসোনাল কম্পিউটিং-এর জন্ম হতো না।’ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অ্যালেনকে ‘অসাধারণ একজন মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন বিল গেটস।

Paul Allen with bill gates

ছোটবেলার বন্ধু বিল গেটসের সাথে মিলে ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কম্পিউটিং-এর দুনিয়াটাকে চিরতরে বদলে দেন পল অ্যালেন। গেটস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘লেকসাইড স্কুলে আমাদের প্রথম পরিচয় থেকে শুরু করে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা এবং জনকেল্যাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দিনগুলোতে পল কেবল ভালো একজন বন্ধুই ছিল না, ছিল সত্যিকারের এক অংশীদারও।’ তিনি আরও বলেন, ‘পল-এর আরো বেশি সময় পাওনা ছিল। তবে প্রযুক্তি ও জনকল্যাণে তার অবদানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে।’
১৯৮৩ সালে মাইক্রোসফট ছেড়ে চলে যাবার পর থেকে নানা ধরনের ব্যবসায়িক ও বৈজ্ঞানিক প্রকল্পে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন পল অ্যালেন। প্রায় বিশ বিলিয়ন ডলারের মালিক পল অ্যালেন দাতা হিসেবেও ছিলেন তুলনাহীন। মানবকল্যাণে তিনি ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি দান করেছেন। ইবোলা, মানবমস্তিক গবেষণা, সমুদ্র ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বিসয়ে অবদানের জন্য ‘কার্নেগি মেডাল অব ফিল্যানথ্রপি’ লাভ করেন পল অ্যালেন।

গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ
Please Share This Post.