সাই-ফাই গ্যাজেট: পর্দা আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক কতোটা?

সিনেমার পর্দায় অনেক কল্প কাহিনী দেখতে অভ্যস্ত আমরা। আদ্যিকালের ‘স্টারওয়ারস’ থেকে শুরু করে হাল আমলের ‘ব্যাটম্যান: ডার্ক নাইট রাইজেস’ পর্যন্ত শত শত ছবিতে এমন সব বস্তু দেখানো হয়েছে যেগুলো আমাদের কল্পনাপ্রিয় মনটাতে সুড়সুড়ি দিয়েছে, তবে সেগুলো কোনোদিন বাস্তবের মাটিতে নেমে আসবে এমন আশা আমরা করিনি। তবে মজার ব্যাপার হল, সাই-ফাই ফ্যান্টাসি মুভিতে আমরা যেসব বস্তু বা গ্যাজেট দেখে শিহরিত হয়েছি তার অনেকগুলোই কিন্তু হয় বাস্তবে ব্যবহৃত হচ্ছে বা অচিরেই বাস্তবের মুখ দেখতে পারে। এ লেখাটি সাজানো হল এমনই কিছু গ্যাজেটের খোঁজখবর দিয়ে। আসুন এগুলো সম্বন্ধে জানা যাক।

মুভি টেকনোলজি: টোটাল রিকল ছবির রোবোট্যাক্সি
বাস্তবের টেকনোলজি: সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাসদার সিটিতে ব্যবহৃত টুগেটদেয়ার রোবোট্যাক্সি

সাড়া জাগানো হলিউডি ছবি টোটাল রিকল-এ আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার একটা রোবোট্যাক্সিতে চড়েছিলো, খেয়াল আছে? দৃশ্য হিসেবে সেটা হয়ত খুব একটা মনোগ্রাহী ছিল না, তবে রোবোট্যাক্সি নামের সেই আপাত কাল্পনিক গাড়িটা বাস্তবের রাস্তায় নেমে এলে ভালোর চাইতে মন্দ হত না বলে যারা ভাবছেন তাদের জন্য বলি, কল্পনা বাস্তব হতে আর বেশি দেরি নেই। আপনি যদি আরব আমিরাতের ঝাঁ চকচকে মাসদার সিটিতে যান তাহলে রোবোট্যাক্সিতে চাইলে চড়তেও পারবেন। টুগেটদেয়ার নামে একটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান ১০টি অটোনোমাস ট্যাক্সি দিয়ে মাসে পঁচিশ হাজারের মত যাত্রী টানছে মাসদার সিটিতে। গাড়িগুলো আগে থেকে ঠিক করে রাখা রাস্তা দিয়ে চলে, কাজেই তেমন কোনো ঝামেলা হয়ত হবে না, তবে গুগল এবং আরো কয়েকটা প্রতিষ্ঠান এমন সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি বানানোর চেষ্টা করছে যেগুলো নিউ ইয়র্কের ভীড়ে ঠাসা রাস্তাতেও ‘নিজের বুদ্ধি’তে চলতে পারবে!

সাই-ফাই

মুভি টেকনোলজি: দি অ্যাভেঞ্জার-এর হলোগ্রাফিক ডিসপ্লে
বাস্তবের টেকনোলজি: উইন্ডস্ক্রিনের মধ্যে হেড-আপ ডিসপ্লে

‘দি অ্যাভেঞ্জার’ ছবিতে আয়রন ম্যান ভিডিও ব্যবহার করে, স্ক্রিনের মধ্যে দিয়ে চলে যায় এবং তার হলোগ্রাফিক ডিসপ্লেতে স্লাইডার অ্যাডজাস্ট করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো টনি স্টার্ক-এর এই প্রযুক্তির অনুকরণে বাস্তব জিনিস বানাতে চাইছে, তবে এর সবচেয়ে কাছাকাছি আমরা বর্তমানে যে বস্তুটি পাচ্ছি সেটি হল ২০১২ বিএমডব্লু ৩-সিরিজ। গাড়ি চালাতে চালাতে আপনি আপনার বর্তমান গতি দেখতে পারবেন, এ পর্যন্ত কতটুকু গতি তুললেন তার সম্পর্কিত নানা হিসাবও পাবেন, তাছাড়া নেভিগেশনের জন্য একটা তীরচিহ্নও দেখানো হবে। গতি দেখানোর জন্য ডিসপ্লে বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখানো হচ্ছে। জেনারেল মোটরস উইন্ডস্ক্রিনের মধ্যে পপ-আপ ডিসপ্লে বসানোর চেষ্টা করছে, অনেক আধুনিক যুদ্ধবিমানে পপ-আপ ঐটউও আছে। ড্যাশবোর্ডের উপর এমন একটা অ্যাঙ্গেলে ছবিকে ফেলা হয় যাতে করে মনে হয় ছবি বুঝি বাতাসে ভাসছে।

সাই ফাই মুভি রিভিউ

মুভি টেকনোলজি: প্রমিথিউস-এর রিয়েল টাইম ম্যাপিং অর্ব
বাস্তবের টেকনোলজি: গুগলস্ট্রিটভিউ-র লোকাল ম্যাপিং-এ ব্যবহৃত হ্যান্ডহেল্ড

‘প্রমিথিউস’ হয়ত ছবি হিসেবে খুব একটা উন্নতমানের নয়, তবে এতে যে প্রযুক্তি সংক্রান্ত কিছু ভালোমানের আইডিয়া আছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। জাহাজের ক্রুরা যখন ভিনদেশী প্রাণীর ব্যবহৃত একটি কুলুঙ্গিতে প্রবেশ করে, তখন তারা এমন কিছু চাকতিকে নিক্ষেপ করে যেগুলো হলওয়েসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাসতে থাকে এবং যা যা দেখছে তার সমন্বয়ে একটি হলোগ্রাফিক মানচিত্র তৈরি করে। বর্তমানে এর সবচেয়ে কাছাকাছি হয়ত এ মুহূর্তে গুগল স্ট্রিটভিউ-ই আছে, এর শত শত গাড়ি সড়ক মহাসড়কে চলাচল করে প্যানোরমিক ইমেজ উস্থাপন  করছে। গুগল এমনকি বাইক, স্নোমোবাই এবং কখনো কখনো পোর্টেবল ঠেলাগাড়িও ব্যবহার করে। স্ট্রিটভিউ প্রজেক্টটি আসলে একটি ব্যাপকভিত্তিক জিওম্যাপিং ব্যবস্থা, কারণ ইমেজগুলোকে সরাসরি জিপিএস কোঅর্ডিনেটস অনুসরণে উপস্থাপন করা হয়, তবে গুগল লাস ভেগাসের ক্যাসিনোর মত বিভিন্ন ভবনের অভ্যন্তরও ম্যাপিংএর ব্যবস্থা করছে।

মুভি রিভিউ

মুভি টেকনোলজি: মাইনরিটি রিপোর্ট-এর ফেস স্ক্যানার
বাস্তবের টেকনোলজি: ডেল এক্সপিএস ১৩ আল্ট্রাবুক

২০০২ সালে ‘মাইনরিটি রিপোর্ট’ ছবিটি যখন রিলিজ হয় তখনও কিন্তু বায়োমেট্রিক ফেস স্ক্যানার সাধারণ মানুষের একেবারেই নাগালের বাইরের ব্যাপার ছিল। ধরুন আপনি একটা শপিং মলের মধ্য দিয়ে হাঁটছেন, তখন বায়োমেট্রিক টেকনোলজির সুবাদে কম্পিউটার জেনে ফেলল আপনি কে। সেসময় অবশ্য ল্যাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছিল, তবে ওটা ব্যবহার করে আপনার ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে ঢুকবেন, এতটা সহজলভ্য এটি ছিল না। যাই হোক, বর্তমানে কিন্তু ফেস স্ক্যানিং বেশ সহজলভ্য হয়ে গিয়েছে। ডেল এর নতুন এক্সপিএস আল্ট্রাবুক থেকে শুরু করে নতুন নতুন সব অ্যান্ড্রয়েড ফোন, যেমন গ্যালাক্সি এসথ্রি-তে এটা পাওয়া যাচ্ছে। এটি ব্যবহার করতে হলে আপনাকে কয়েক মুহূর্তের জন্য ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বসতে হবে। ডিটেক্টরটি আপনার মুখটা স্ক্যান করবে, আপনার নাক মুখের নকশা, দুই চোখের মধ্যকার দূরত্ব, আপনার গালের আকৃতি এসব হিসাব করবে। তবে এটা যে একদম নিখুঁত তা বলা যাবে না। মোটামুটি আপনার মত দেখতে কেউ যদি আপনার ফোন বা ল্যাপটপে ঢুকতে চায় তাহলে সম্ভবত বায়োমেট্রিক স্ক্যানার তাকে ঢোকার অনুমতি দিয়ে দেবে। তবে এ প্রযুক্তিকে প্রতিনিয়ত আরো নিখুঁত করা হচ্ছে সেটাও ঠিক।

বায়োমেট্টিক

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/
Please Share This Post.