নিবন্ধন ছাড়াই ভ্যাট নেবে বিটিআরসি

বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে এনবিআর।

ফলে ‌’ভ্যাট নিবন্ধন’ না থাকায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিটিআরসির কাছে ভ্যাট পরিশোধে দীর্ঘ দিন হতে যে আপত্তি এখন তার সুযোগ নেই বলছে বিটিআরসি।

আগে ভ্যাট নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংক্রান্ত যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল সেটি এখন নিরসন হলো। মোবাইল ফোন অপারেটররা যে রেভিনিউ শেয়ার করে থাকে তা এখন নিশ্চিন্তে বিটিআরসিতে জমা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, এনবিআরের এই ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তে এখন বছর-বছর সরকারের বিভিন্ন পাওনা ভ্যাটসহ বিটিআরসিকে যেভাবে পরিশোধ করে আসছে মোবাইল ফোন অপারেটররা তা সেভাবেই করতে পারবেন।

‌’জটিলতা নিস্পত্তিকালীন সময়ে অপারেটররা ভ্যাট ছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের যে রাজস্ব জমা দিয়েছে এখন সরকারের সেই পাওনা তো পরিশোধ করতেই হবে’ বলছিলেন এই কর্মকর্তা।

এনবিআর সম্প্রতি চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে জানায়, মূল্য সংযোজন কর আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ধারা ৪ এর উপধারা ২ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনকারী হিসেবে বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

‘বিটিআরসি ভ্যাট নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই’ এমন সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এনবিআরের।

বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধন নিয়ে বিটিআরসি-মোবাইল ফোন অপারেটর মতপার্থক্য এমন জটিল হয়েছে যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত গিয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এক বৈঠকে সজীব ওয়াজেদ জয় বিটিআরসিকে ৭ দিনের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন দিতে বলেছিলেন । তখন ওই বৈঠকে এনবিআর প্রতিনিধিকেও ডেকে আনা হয়।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিভাগটির উধ্বর্তন কর্মকর্তা, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিরা।

এর আগে ভ্যাট পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার কারণে ১০ জুলাই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব জমা দিতে গিয়ে পারেনি। অপারেটরগুলো ওই দিন তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিলে-জুন) বিভিন্ন পাওনা যেমন অপারেটরদের রাজস্বের অংশ, সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা তহবিল ও বাৎসরিক তরঙ্গ ফি পরিশোধ করতে গিয়েছিল।

পরে জটিলতা ‘নিস্পত্তিকালীন’ সময়ে ভ্যাট ছাড়াই এসব পাওনা বিটিআরসিতে জমা দেন তারা।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব এর মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদ তখন জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে কার্যকর বর্তমান মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২) অনুযায়ী অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আছে। তাই বিটিআরসির  মূসক বা ভ্যাট নিবন্ধন না করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ কারণেই ভ্যাটের টাকা বিটিআরসিতে দিতে চান না তারা।

-সূত্র/টেকশহর/সিএন/২১এজি/১৯

Please Share This Post.