নারীদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণে স্মার্টবাস

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের স্থিতিশীল উন্নয়নে একটি সম্মিলিত পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগ, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আইসিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিজ (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো  রবিবার রাজধানীতে আইসিটি বিভাগে উল্লিখিত বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে। রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, হুয়াওয়ে টেকনোলজিজ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ঝাও হাউফু ও আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুর কাদির নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এসময় আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব নারীরা নিজ এলাকার বাইরে যেতে পারেন না তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্দেশে ছয়টি বাসে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। আইসিটি বিভাগ, রবি ও হুয়াওয়ে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান দুটি করে বাস প্রদান করবে। আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস দুটির রক্ষণাবেক্ষণে থাকবে রবি ও হুয়াওয়ে। শিগগিরই প্রকল্পটি চালু হবে এবং ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শুরুর উদ্দেশে কয়েকটি বাস প্রস্তুত করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির মেয়াদ হবে তিন বছর।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলার ২ লাখ ৪০ হাজার তরুণী ও মেধাবী নারীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। আইসিটির মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রকল্পটি নারীদের (বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকায়) মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শুধু নারীদের মধ্যেই নয়, বরং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আইসিটি প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট করতে প্রকল্পটির আওতায় প্রান্তিক এলাকায় রোড শো’র আয়োজন করা হবে।

বিশেষ এই বাসগুলোতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে, বাইরের শব্দ প্রবেশ করতে পারবেনা এবং প্রতিটিতে একসাথে ২৫ জন প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য একটি ল্যাপটপ, বড় এলইডি স্ক্রিন, সাউন্ড সিস্টেম, ওয়াইফাই ইন্টারনেট, নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ সামগ্রী, প্রশিক্ষণ সফটওয়্যার ও সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকবে। আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা হবে এবং বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি বাস নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করবে এবং বছরে ৪০ সপ্তাহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি স্থানে এক বা দুই দিনের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ শেষে ওই এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আইসিটি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাসগুলো দিয়ে রোড শো’র আয়োজন করা হবে।

ভিশন ২০২১-কে সামনে রেখে আইসিটি’র মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে এই প্রথম এমন একটি পদক্ষেপ হাতে নেয়া হল। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপে এই প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রান্তিক তরুণীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটা সময় আইসিটি’র উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কাজ করবে, আমাদের প্রান্তিক অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এ প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে মেধাবী নারীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে যারা আইসিটি’র মাধ্যমে এগিয়ে যাবেন যেমনটি পারত তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। এই নারীরা তাদের সমাজে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন এবং আইসিটি’র মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.