নারায়ণগঞ্জে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প

দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আগ্রহী করে তাদের এই খাতে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প থেকে এই আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।

যশোর, চাঁদপুর, ভোলা, কুমিল্লা, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, নওগাঁ, শেরপুর সহ আরো কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে আয়োজিত হয়েছে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত হল আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প।

২৬ জানুয়ারি, সরকারি তোলারাম কলেজে নারায়ণগঞ্জ জেলার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ গভর্নেন্স (এলআইসটি) প্রকল্পের আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত জনবল । দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সারোয়ার হোসাইন, সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মধুমিতা চক্রবর্তী, সরকারি তোলারাম কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল খালেক মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিশ্বাস চন্দ্র, এলআইসিটি প্রজেক্টের কনসালটেন্ট শাহ মো. ইমরান, ই-কমার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট রাজীব আহমেদ, ওমেন ইন ডিজিটাল এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার সামিয়া আফরিন মিথিলা ও সরকারি তোলারাম কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এছাড়াও উক্ত কলেজর বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইটি পেশাজীবির সংখ্যা বর্তমান সাত লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে চায়। এজন্য নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আইটি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী এলআইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে আইটিতে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪৫ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। দেশব্যাপী অব্যহত রয়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এছাড়াও চলমান রয়েছে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরির প্রশিক্ষণ। তাছাড়া বিসিসিতে অব্যাহতভাবে তথ্য প্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সারোয়ার হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, আইসিটি ডিভিশনের অধীনে এলআইসিটি প্রজেক্টের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারপ্রান্তে যে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা যেন তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। একই সাথে তরুণ সমাজকে আইটিতে তাদের ভবিষ্যত গড়ারও আহবান জানান।

এলআইসিটি প্রজেক্টের কনসালটেন্ট শাহ মো. ইমরান তার বক্তব্যে কলেজের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এলআইসিটি প্রোজেক্টের কনসালটেন্ট শাহ মো. ইমরান-এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা আইটিতে অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অনলাইন কুইজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে একজন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষার্থীকে উই মোবাইলের সৌজন্যে একটি করে স্মার্ট মোবাইল ফোন পুরষ্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.