নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নাটোরের সিংড়ায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ১১ জুন সোমবার, এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার সারা দেশে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করছে। বর্তমান সরকার দেশকে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার মেনুফ্যাকচারিং এর হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের আইসিটি সেক্টরে এক মিলিয়ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং এই খাত থেকে বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে চায়। আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য হাই-টেক পার্ক বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের ব্রেইন চাইল্ড এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, একইসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে। এই প্রশিক্ষিত জনবলের মাধ্যমেই ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হবে। আর এক্ষেত্রে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলা হবে তথ্যপ্রযুক্তির মিনি সিঙ্গাপুর।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সিংড়াতে ইনকিউবেশন সেন্টার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হলে চলনবিল ইকোনোমিক হাবে পরিণত হবে। এতে সিংড়ার ২০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। সরকার একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হচ্ছে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে এই দক্ষ জনবল সৃষ্টির পথ আরো মসৃণ হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তৈরি করবে বিশ্বমানের সফটওয়্যার। দেশে আইটি খাতে কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির বিকল্প নেই। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ আরো সহজ হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আইটি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করায় এখন দেশেই বিভিন্ন কোম্পানি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, এসি প্রভৃতি উৎপাদন করছে। ফলে এসব পণ্য সুলভ মূল্যে ক্রেতারা নিতে পারছেন। অন্যদিকে সামস্যাং, এলজির মতো বিশ্বের নামকরা কোম্পানিগুলো এখন হাই-টেক পার্কগুলোতে কাজ করতে চাইছে।

শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্পের পরিচালক গোরীশংকর ভট্টাচার্য্য বলেন, আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দেশের সাতটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, নাটোরের সিংড়া, কুমিল্লার লালমাই, নেত্রকোনা সদর, বরিশাল সদর ও মাগুরা সদরে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি স্থানে ৩৫,৫০০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ভবন ও সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫,০০০ জনকে আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ দেশের ২৮টি স্থানে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক স্থাপন করছে, এর মধ্যে ঢাকায় জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.