নতুন গোপনীয়তা নীতি উন্মোচন করেছে মাইক্রোসফট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট ডিভাইসের মতো প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে বিশ্বকে পরিচিত করানো, গোপনীয়তা নীতি বিষয়ক মাইক্রোসফটের প্রতিশ্রুতি এবং গ্রাহকদের সঙ্গে মিলে কাজ করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে উইন্ডোজ প্রাইভেসি এক্সপেরিয়েন্স-এর যেন কোনো পরিবর্তন না আসে।

উইন্ডোজ ডায়াগনস্টিক ডাটা ভিউয়ারের উইন্ডোজ ইনসাইডার-এর প্রিভিউ উন্মাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের ডাটা প্রাইভেসি ডে শুরু করেছে মাইক্রোসফট, যা উইন্ডোজের আসন্ন হালনাগাদ সংস্করণে আসতে যাচ্ছে। উইন্ডোজ ডিভাইস থেকে পুরোপুরি স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার পদ্ধতি এবং তথ্যের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ। মাইক্রোসফটের ডিভাইস ও সেবার প্রতি ব্যবহারকারীর বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবেই নতুন এই হালানাগাদ সংস্করণ।

এছাড়া মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত আরো বেশি তথ্য একসাথে মাইক্রোসফট প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শন ও পরিচালনা করার অপশন চালু করা হয়েছে। উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সেবা নিশ্চিৎ করতেই এতো পরিবর্তন নিয়ে এসেছে মাইক্রোসফট, যা আগামি দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

উইন্ডোজ ডায়াগনস্টিক ডাটা ভিউয়ার
উইন্ডোজ ডিভাইস থেকে তথ্য গ্রহণ করার সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিৎ করে থাকে উইন্ডোজ ডায়াগনস্টিক ডাটা ভিউয়ার। মাইক্রোসফট স্টোরে সবার জন্য উন্মুক্ত উইন্ডোজ ডায়াগনস্টিক ডাটা ভিউয়ারটি মাইক্রোসফট প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তথ্য দেখা, খোঁজ করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুবিধা প্রদান করে থাকে।

ক্লাউডের সঙ্গে সংযুক্ত নির্দিষ্ট ডিভাইস থেকে উইন্ডোজ ডায়াগনস্টিক ডাটা দেখতে এবং খুঁজতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ডায়াগনস্টিক ডাটার মধ্যে রয়েছে:

* সাধারণ তথ্য যেমন- অপারেটিং সিস্টেমের নাম, সংস্করণ, ডিভাইস আইডি, ডিভাইস ক্লাস, ডায়াগনস্টিক লেভেল নির্বাচনসহ আরো অনেক কিছু।

* ডিভাইস কানেক্টিভিটি ও কনফিগারেশন যেমন- ডিভাইসের বিস্তারিত তথ্য ও ধারণক্ষমতা, অগ্রাধিকার ও সেটিংস, পেরিফেরাল এবং ডিভাইসের নেটওয়ার্ক তথ্য।

* পণ্য ও সেবার দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য যা প্রদর্শন করে ডিভাইসের স্বাস্থ্যগত অবস্থা, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্য, ডিভাইসে সিনেমা বা মিডিয়া ফাইল ব্যবহারের কার্যকারিতা এবং ডিভাইসের ফাইল সম্পর্কিত তথ্যাদি।

মনে রাখা জরুরি যে, ব্যবহারকারীর দেখার এবং শোনার অভ্যাস সংরক্ষণের কোনো উদ্দেশ্য উক্ত কার্যপ্রণালীর নেই।

* পণ্য ও সেবার ব্যবহারিক তথ্য যেখানে রয়েছে ডিভাইসের ব্যবহার, অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন ও সেবাড় সফটওয়্যার সেটআপ এবং তালিকাভুক্ত জিনিসপত্র যেখানে রয়েছে ইন্সটল হিস্টোরি বা ইতিহাস, ডিভাইস আপডেট বা হালনাগাদ তথ্য।

দেখা, খোঁজা এবং ডায়াগনস্টিক তথ্যের পরিসাবন এমনকি যে এসব দেখে তার সম্পর্কে গ্রাহককে মন্তব্য করতে পারে ডায়াগনস্টিক ডাটা ভিউয়ার।

মাইক্রোসফট প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড
মাইক্রোসফট প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ডের নতুন অ্যাকটিভিটি হিস্টোরি পেজ যেখানে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর সংরক্ষিত তথ্য দেখার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি সরবরাহ থাকে। ডিভাইস কিংবা ব্রাউজারের প্রাইভেসি সেটিংস থেকে যেকোনো সময় ব্যবহারকারীকে তথ্য পরিচালনা করার সুযোগ করে দেয় মাইক্রোসফট প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড।

আগামী দিনগুলোতে মাইক্রোসফট নিম্নলিখিত ফিচার নিয়ে আসবে-

* মিডিয়া সংক্রান্ত ব্যবহারিক তথ্য দেখা ও পরিচালনা এমনকি অ্যাকটিভি হিস্টোরি পেজে পণ্য ও সেবার কার্যকারিতা দেখতে পাওয়া।

* যেকোনো ধরনের তথ্য এক্সপোর্ট করার অপশন ড্যাশবোর্ডে দেখতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

* ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট আইটেম মুছে ফেলার সুযোগ।

উইন্ডোজ ইনসাইডার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা সবার আগে নতুন ফিচারগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। আগামীতে কিছু বাড়তি কার্যকারিতা ও সেটিংসে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে তারা এবং তাদের মন্তব্য কি হবে তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছে মাইক্রোসফট। ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তার ওপর প্রাধান্য দেয়ার মধ্য দিয়ে উইন্ডোজ টেন ব্যবহারে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে নিরাপদ অভিজ্ঞতা প্রদানে মাইক্রোসফট প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.