নতুন অর্থ বছরের বাজেটে নতুন কর নিয়ে ”অ্যামটব্”এর প্রতিবাদ

গতকাল এ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল অপারেটর্স ইন বাংলাদেশ ‘অ্যামটব্’ একটি লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি/ বিবৃতির মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে। অ্যামটব অভিযোগ উত্থাপন করেছে যে, টেলিযোগাযোগ শিল্প খাত যেখানে জিডিপি-তে ৬ শতাংশ অবদান রাখছে অদূর ভবিষ্যতে যা ৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তথাপি, ইন্ডাস্ট্রি –এর পক্ষ হতে উপস্থাপিত বাজেট-পূর্ব প্রস্তাবনার কোনো প্রতিফলন বাজেট ভাষনে লক্ষ্য করা যায়নি। বাজেট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে সাধারণ কাস্টমারদের উপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে অথচ কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি।

মোবাইল হ্যান্ডসেট, বিশেষ করে স্মার্টফোন –এর আমদানির উপর চাপিয়ে দেয়া বাড়তি কর অ্যামটব ‘অসময়োপযোগী’ বলে আখ্যা দিয়েছে, যেহেতু দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী শিল্প এখনও তা থেকে সুফল গ্রহন করার উপযুক্ত হয়ে ওঠতে পারেনি। যেহেতু ৯৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল যন্ত্রের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহন করে থাকে, হ্যান্ডসেট –এর উপর আরোপিত নতুন কর আগামিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধক হবে। অ্যামটব ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, তা করা না হলে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার রাজনৈতিক লক্ষ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে সীম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, ইতি পূর্বে উক্ত কর হ্রাসের সুফল হিসাবে ইউনিক সীম ৫৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং পরবর্তি প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাহার করে নেয়া আবশ্যকিয়। অন্যান্য শিল্পখাতের সঙ্গে করপোরেট ট্যাক্স-এর সমতা বিধান করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

অ্যামটব মনে করে হ্যান্ডসেট এবং মোবাইল টেলিযোগযোগ পরিকাঠামোর উপর বাড়তি কর এবং সেই সাথে সীম ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের টেলিযোগাযোগ এবং ডাটা-সেবা স্বল্প-ব্যয়-সাপেক্ষ করে তোলার উচ্চাশার পরিপন্থি।
লক্ষ্যনীয় যে, কোনো মোবাইল অপারেশনই লাভজনক নয়, একটি ব্যতিরেকে, এবং পরিকাঠামোগত ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সে সকল অপারেশনের ক্ষেত্রে মুনাফা অর্জন নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। অ্যমটব মনে করে সরকার আবারও তৎক্ষণিক ক্ষুদ্র ফল লাভের প্রত্যাশায় আবারও দীর্ঘমেয়াদি বৃহদ স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে।

যদিও টেকসই জাতীয় উন্নয়নের জন্য সরকারের গৃহিত উন্নয়ন কৌশল-নীতির ক্ষেত্রে মোবাইল নেটওযার্ক অপারেটররা অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে, কারণ ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক উপার্জিত প্রতি ১০০ টাকা হতে সরকারের রাজস্বে যায় ৪৭ টাকা।

আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, ইন্টারনেট সেবা দেশের মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিগত ২০ বছরে এক লক্ষ কোটি টাকার অধিক অর্থ বিনিয়োগ করে আমরা হালনাগাদ ইউনিক সীম ব্যবহারের মাত্রা ৫৪ শতাংশে নিয়ে আসতে পেরেছি। দেশে ৪৬% মানুষ এখনও তাদের জীবনে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল ভোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এরকম বাস্তবতার মধ্যে সীম ট্যাক্সের উপর ১৫% ভ্যাট চাপিয়ে দেওযার ফলে সংযোগের আওতার বাইরে রয়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে ডিজিটাল বিপ্লবের অংশ হয়ে ওঠা আরো দুষ্কর হয়ে যাবে, শুধু এই কারণে যে তারা সীম সংযোগ নেওয়া নিজেদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে মনে করবে, যেহেতু তারা তুলনামূলক ভাবে সুবিধা বঞ্চিত অংশ। অতএব আমরা বাজেটে নির্ধারিত সীম ট্যাক্স এবং সীম রিপ্লেসমেন্ট ট্য্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা মনে করি তা করার পক্ষে বাস্তবানুগ কারণ বিদ্যমান রয়েছে। আমরা যদি ২০১১ সালের দিকে তাকায় যখন সীম ট্যাক্স ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তখন জিডিপি-তে মোবাইল শিল্পের অবদান ছিলো ৩.২%; উক্ত কর ২০১৩ সালে যখন ৩০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়, জিডিপি-তে মোবাইল শিল্পের অবদান বেড়ে দাঁড়ায় ৪-৯%; এবং ২০১৫ সালে সীম ট্যাক্স কমিয়ে ১০০ টাকা করা হলে মোবাইল শিল্প জিডিপি-তে ৬.২% অবদান রাখে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট : বাংলাদেশ- জিএসএমএ’ অনুযায়ী অপারেটরদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে মোবাইল সেবা শিল্প ২০২০ সালে ১৭ বিলিযন ডলার যোগ করতে এবং ৮ লাখ ২০ হাজার মানুষের জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হব। অতএব আমরা সরকারের কাছে উল্লেখিত কর সম্পূর্ণ এবং স্থায়ি ভাবে বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

আমরা মনে করি টেলিযোগাযোগ শিল্পের উপর নির্ধারিত ৪৫% করপোরেট ট্যাক্স এই খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি প্রধান অন্তরায়। অন্যান্য শিল্পের বেলায় যখন দেখা যাচ্ছে পাবলিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে তালিকাভুক্ত কি না তার উপর নির্ভর করে ৩০-৩৫% করপোরেট ট্যাক্স প্রদান করছে, পক্ষান্তরে ৪৫% করপোরেট ট্যাক্স আমাদের হাতে দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার সুযোগ প্রায় অবশিষ্ট রাখছে না। এই প্রেক্ষিতে আমরা নির্ধারিত করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে এনে অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে সমতা বিধানের প্রস্তাব রাখছি।

১ জুন ২০১৭ মাননিয় অর্থ মন্ত্রীর বাজেট পেশের মধ্যে আমাদেরে প্রস্তাবনার কোনো প্রকার প্রতিফলন লক্ষ্য না করে ভীষণ ভাবে মর্মাহত হয়েছি। আমরা আশা রাখছি সরকার আমাদের ইতি পূর্বে জমা দেওয়া প্রস্তাবনার আলোকে তাদের সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনা করে আমাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনের পথে সহায়ক ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিবে।

অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন, বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ডিরেক্টর তৈমুর রহমান ও অ্যমটবের সেক্রেটারি টিআইএম নুরুল কবির উপস্থিত ছিলেন।

-সিনিউজভয়েস

Please Share This Post.