দ্য বেস্ট অব ডিজিটাল মার্কেটিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

২৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ৯.০০টা থেকে ৪.৩০ পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অনুষ্ঠিত হয় দ্য বেস্ট অব ডিজিটাল মার্কেটিং কনফারেন্স।

দ্য বেস্ট অব ডিজিটাল মার্কেটিং- ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে আয়োজিত একটি সম্মেলন, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, বিগ ডেটা এবং রিয়েল টাইম মার্কেটিংসহ ডিজিটাল মার্কেটিং-এর প্রায় সব দিক সম্বন্ধে জানা যায়। কনফারেন্সটিতে দেশের বিভিন্ন খাতের বিশেষ করে মার্কেটেং খাতের কয়েকশ পেশাজীবি অংশ নেন। এছাড়া প্রচুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও ছিল। ছাত্রদের জন্য ছিল টিকেটের ওপর বিশেষ ছাড়।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটি দ্য বেস্ট অব ডিজিটাল মার্কেটিং ওয়ার্ল্ড ট্যুর ২০১৬ -এর অংশ। এই ট্যুর জানুয়ারি ২০১৬ এ রিগা-তে শুরু হয়ে অ্যামস্টারড্যাম, ইস্তানবুল, ম্যনিলা, কুয়ালালামপুর প্রভৃতি জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে এই আয়োজনের সহযোগী ফিনান্সিয়াল টেকনোলজিভিত্তিক (ফিনটেক) প্রতিষ্ঠান ডি-মানি।

বিটপি লিও বার্নেটের ডিজিটাল কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর নওশের রহমান বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক মানের একটি কনফারেন্স নিজেদের জন্যই আয়োজন করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে নিয়ে করলে সবারই উপকার হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলন আরও একধাপ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এই আয়োজনের কারনে। একারনেই এরকম একটি উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত সবার কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি।’

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পুরস্কারজয়ী ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর কেস স্টাডির ওপর ভিত্তি করে এই সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। যেখানে কথা বলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন-
জার্মানির মিডিয়াকম বিয়ন্ড অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নর্ম্যান ওয়্যাগনার,  এস্তোনিয়ার বেস্ট মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনালের সিইও হান্ডো সিনিসালু, ভারতের আইবিএস- ইন্টারফেস বিজনেস সলিউশনের সিইও বিক্রম ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, বাংলাদেশের গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন্স লিড স্পেশালিস্ট রেফায়েত আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। এটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এই ডিজিটাল মার্কেটিং ওয়ার্কশপ তার একটি প্রমাণ। দেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগোনোর ফলেই এরকম একটি আয়োজনের প্রয়োজন পড়েছে। আমাদের সরকার ডিাজটাল অগ্রযাত্রার জন্য তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অ্যাকসেসেবিলিটি, অ্যাভেইলেবিলিটি এবং অ্যাফোর্ডেবিলিটি। ফলে সামনে এই খাতে আরো অগ্রগতি হবে, নতুন নতুন প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা যুক্ত হবে। তাদের জন্য মাইটি বাইট ও বিটপি লিও বার্নেট এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন করা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা রাখছি।’

আয়োজনের স্পন্সর হিসেবে ছিল ডি-মানি। ডি-মানির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরেফ আর বশির বলেন, ‘আমরা বরাবরই নতুন কিছুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে আগ্রহী। ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে বাংলাদেশের তরুণদের অমিত সম্ভাবনা আছে। এই কনফারেন্স থেকে আমরা পুরো ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

সম্মেলনে প্রায় ২০টি কেস স্টাডি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়। সঙ্গে ছিল ক্রিয়েটিভ কাজের উদাহরণ এবং ক্লায়েন্ট ও তাদের এজেন্সির সাক্ষাতকার। পাশাপাশি পুরস্কার পাওয়া প্রতিটি কেস স্টাডির শিক্ষনীয় মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। উল্লেখ্য যে, এই কেস স্টাডিগুলো পিএন্ডজি শিক্ষা, ওল্ড স্পাইস ইন্ডিয়া, শেল্, ভক্সওয়াগন, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, রেড বুল, অ্যাডকক ইনগ্রাম, ডেল, স্নিকার্স, ম্যাকডোনাল্ডস ও আরো অনেক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এর ক্যাম্পেইনের ওপরে ভিত্তি করে তৈরি করা।

মাইটি বাইট (ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি) ও বিটপি লিও বার্নেট (ক্রিয়েটিভ অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি) বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং দেশের সুপরিচিত দু’টি এজেন্সি।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

 

Please Share This Post.