দ্য ইভিল উইদিন ২

হরর ঘরানার গেম যাদের পছন্দ, ইভিল উইদিন নামটি তাদের নিশ্চয়ই চেনা। গেমটি মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই হররপ্রেমীদের আকর্ষণ লুফে নেয়। তারই সিকুয়্যেল হিসেবে মুক্তি পেয়েছে দ্য ইভিল উইদিন টু। এর প্রকাশক বেথেসডা, নির্মাতা ট্যাঙ্গো গেমওয়ার্কস।

ইভিল উইদিন টু একটি থার্ড পারসন সারভাইভাল হরর ঘরানার গেম। আগের গেমটির চেয়ে এটিকে আরো বড় পরিসরে সাজানো হয়েছে এবং প্লেয়ার মুভমেন্টকে আরো স্মুথ করা হয়েছে। গেমার আগের তুলনায় আরো স্বাধীনভাবে এক্সপ্লোর করতে পারবেন। গেমে অনেকগুলো হাবওয়ার্ল্ড আছে,কিছুটা স্যান্ডবক্স ঘরানার অনুভূতি পাওয়া যাবে। তবে ‘করিডোর এরিয়া’য় গেমার প্রকৃত সারভাইভাল হররের স্বাদ পাবেন। তবে আগের গেমটিকে কভার এলিমেন্ট ছিল না, এবার কভার এলিমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি গেমার কভার থেকে উঁকি দিয়ে শত্রুর গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারবেন। অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন পিস্তল,রাইফেল, ক্রসবো, শটগান, ফ্লেমথ্রোয়ার।

এছাড়াও কিছু স্পেশাল অস্ত্র আছে, যেমন-লেজার পিস্তল বা সাইলেন্সড পিস্তল। তবে গেমটি যেহেতু ‘সারভাইভাল’ গেম, অস্ত্রের জন্য অ্যামো খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এজন্যে শত্রুকে মারার জন্য এনভায়রনমেন্টাল অ্যাটাক কিংবা স্টেলথ অ্যাটাক করতে হবে। প্রথম গেমটির মতো এবারও বস ফাইটগুলো বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে। গেমারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়া ‘বাজ স স্টকার’ ,‘লস্ট ও’নিল’ কিংবা ‘ফাদার থিওডোর’ এর মতো বসগুলো যতোটা ইউনিক, ততোটাই ভীতিকর। বেশিরভাগ হরর গেমগুলোতে বস ফাইটগুলো সাধারণত হয় মাথামুন্ডুহীন।

ইভিল উইদিন খেললে গেমারের মনে হবে ‘বস ফাইট এমনই হওয়া উচিত।’ তাছাড়া প্রত্যেকটি বসই কাহিনীর সাথে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। শত্রুকে মেরে গেমারকে গ্রীন জেল সংগ্রহ করতে হয়। গ্রীন জেল দিয়ে ক্যারেক্টার আপগ্রেড করা যাবে। সাধারণ শত্রু মেরে কয়েকশ জেল পাওয়া যেতে পারে, যেখানে বস ফাইট থেকে পাঁচ হাজার পর্যšত জেল পাওয়া যেতে পারে। ওয়াপন পার্ট দিয়ে অস্ত্রের ফায়ার রেট, রিলোড স্পিড ইত্যাদি আপগ্রেড করা যাবে।

গেমটি খেলতে যা যা প্রয়োজন:
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ৭,৮.১ কিংবা ১০ ( শুধুমাত্র ৬৪ বিট)
প্রসেসর: ইন্টেল কোর আই-৫ ২৪০০/ এএমডি এফএক্স-৮৩২০
গ্রাফিক্স কার্ড: এনভিডিয়া জিটিএক্স ৬৬০ ২ গিগাবাইট অথবা এএমডি ৭৯৭০৩ গিগাবাইট
র‌্যাম: ৮ গিগাবাইট
হার্ডডিস্ক: ৪০ গিগাবাইট

ইভিল উইদিন সিরিজে ভৌতিক আবহ আর গেমপ্লের পাশাপাশি কাহিনীও সমান গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। প্রথম গেমের কাহিনী যেখান থেকে শেষ হয়, দ্বিতীয় গেম শুরু হয় তার তিন বছর পর থেকে।প্রটাগনিস্ট হিসেবে আবারও সেবাস্টিয়ানকে নিয়ে খেলতে হবে। প্রথম গেমে দেখা যায় সেবাস্টিয়ান তার স্ত্রীকে হারায় আর তার মেয়ে আগুনে পুড়ে মারা যায়।

দ্বিতীয় গেমের শুরুতে জুলি কিডম্যান সেবাস্টিয়ানকে জানায় তার মেয়ে এখনো বেঁচে আছে। এজন্যে তাকে আবার ‘মোবিয়াস’-এর সাথে হাত মেলাতে হবে। প্রথম গেমটি যারা খেলেছে, মোবিয়াস নামটি তাদের চেনা। মোবিয়াস করপোরেশনের তৈরি ভার্চুয়াল জগত ‘স্টেম’ এ আরেকবার পা বাড়াতে বাধ্য হয় সেবাস্টিয়ান। সেখানে পৌঁছৈ সে দেখতে পায় জগতের সবাই ভীতিকর রক্তপিপাসু দানবে পরিণত হয়েছে। দু:স্বপ্নের এই শহর থেকে মেয়ে লিলিকে বাঁচানোর চেষ্টা নিয়েই এগিয়ে চলেছে ইভিল উইদিন টু-এর কাহিনী। গেমটির আবহ যেমন গা শিউরে ওঠার মতো, কাহিনীও তেমনি টান টান উত্তেজনার। বিশেষ করে এর অ্যান্টাগনিস্ট স্টেফানো তো অসাধারণ এক চরিত্র। সে পেশায় ফটোগ্রাফার। কদাকার অথবা হাস্যকর ‘ভূত’ ছাড়াও যে হরর গেমের চরিত্র হতে পারে, স্টেফানো তার উদাহরণ। গেমের পুরো জগতটাতেই ফটোগ্রাফির নানা উপকরণ ছড়ানো। মাঝেমধ্যে গেমার দেখতে পাবে বিশাল আকারের চোখের মতো লেন্স আকাশ থেকে উঁকি মারছে। এরকম ইউনিক কনসেপ্টের প্রশংসা করতেই হয়।

গ্রাফিক্স,গেমপ্লে,কনসেপ্ট,কাহিনী সব কিছু ইভিল উইদিনকে পরিণত করেছে অসাধারণ একটি গেমে। দীর্ঘকাল থেকে চলা রেসিডেন্ট ইভিলের চেয়েও একে ভালো বলে গণ্য করছে অনেকে। বিখ্যাত সাইলেন্ট হিল সিরিজের সাথে ইভিল উইদিনকে তুলনা করা হচ্ছে। হরর গেম যারা পছন্দ করেন, তাদের তো বটেই এমনকি যারা হরর গেম পছন্দ করে না, তাদেরও পছন্দ হবে ইভিল উইদিন টু। গেমারের মোটেও মনে হবে না গেম খেলছেন, বরং মনে হবে কোনো হরর মুভি উপভোগ করছেন। তাই গেমার এখনই বসে পড়তে পারেন কম্পিউটারের সামনে, ডুবে যেতে পারেন ইভিল উইদিনের জগতে।

লেখক: শাহেদ উন নবী
গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল,ঢাকা 

Please Share This Post.