দেশে সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তোলার জন্য কাজ করব : সহিবুর রহমান

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। এবারের নির্বাচনের প্রার্থী সংখ্যা অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি। তিনটি প্যানেলের হয়ে লড়ছেন অধিকাংশই। এর বাইরে কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীও হয়েছেন। তিনটি প্যানেলের একটি হচ্ছে ‘টিম দুর্জয়’। এই প্যানেলে রয়েছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁর মধ্যে সল্যুশন নাইন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সহিবুর রহমান খান রানা অন্যতম। নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন তরুণ এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী।
বেসিস নির্বাচনে কেন আসলেন? সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সহিবুর রহমান খান রানা বলেন, আইটি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আছি গত নয় বছর ধরে। একেবারে নবীন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সফলতা পেতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। বলা চলে, খুব কঠিন সময় পার করেছি। বর্তমানে সফলভাবে কাজ করছি। তাই নতুন উদ্যোক্তারা যেসব বাঁধার সম্মুখ হন সেসব বিষয় এবং তা থেকে কীভাবে ‍উতরে যাওয়া সম্ভব তা আমি জানি। এ কারণে বেসিসের মাধ্যমে নতুন ও তরুণ আইটি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করতে চাই। যেহেতু বেসিস হচ্ছে এমন একটি সংগঠন, যেটির মাধ্যমে সহজে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা যায়।
নির্বাচনে ইশতেহার সম্পর্কে তিনি বলেন, দুইটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশে সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তোলা এবং অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স ব্যবস্থা আরও সহজ করা। এর মধ্যে সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তোলার কারণ হচ্ছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ভালো সফটওয়্যার বানাচ্ছে কিন্তু মার্কেটিংয়ের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সেভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। দেখা যায়, বেশিরভাগই প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ কিন্তু মার্কেটিংয়ে সেই হারে ভালো না। এছাড়া এ রকম প্রতিষ্ঠান থাকলে সফটওয়্যার বেচা-কেনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তেমন ভাবতে হবে না। আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স ব্যবস্থা সহজ করা। সে ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসিস নির্দিষ্ট কোনো সার্টিফিকেট দেবে। আর সেটির মাধ্যমে তারা অর্থ লেনদেনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এ ছাড়া বেসিস সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া কী, তা তালিকা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। আমার যে অভিজ্ঞতা এবং বেসিসের মতো সংগঠন থেকে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ। সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সির জন্য উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করা হবে। আর এ জন্য সচেতনতাও বাড়ানো হবে।
টিম দুর্জয়ের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, আইটি শিল্পে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে তরুণ উদ্যোক্তারাই। তাঁরা নিজেদের সমস্যা সম্পর্কে জানে এবং অন্যদের সমস্যা সম্পর্কেও অবগত থাকে। তাই আইসিটি শিল্পের উন্নয়নে আমরা একে অপরকে সহায়তা করতে চাই। এ জন্য আমাদের প্যানেলে সিনিয়ররাও আছেন। উনারা আমাদের নির্দেশনা দেবেন। তাই আমরা সঠিক পথেই থাকব।
প্রসঙ্গত, বেসিস নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি ‘টিম বিজয়’ নামের প্যানেলটির ঘোষণা দিয়েছিলেন ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। তবে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে টিম আর ভোটারদের অনুরোধে এই প্যানেলের নাম পরিবর্তন হয়ে ‘টিম দুর্জয়’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. সহিবুর রহমান খান রানা। ‍তিনি ছাড়া এই প্যানেলের বাকি আট সদস্য হচ্ছেন ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, এটম এপি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আহমেদুল ইসলাম, এলিয়ন টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ, স্টার হোস্টের চেয়ারম্যান কাজী জাহিদুল আলম, স্পিন্ট অব স্টুডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম আসাদুজ্জামান, চালডালের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ, রেইজ আইটি সলিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এ এম রাশেদুল মজিদ এবং জামান আইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামান খান।
—-সিনিউজয়েস
Please Share This Post.