দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কত?

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কত এটা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তবে কারো কাছে সঠিক কোনো হিসাব নেই। এমনকি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছেও হিসাব নেই। সঠিক হিসাব পেতে অনেক প্রতিষ্ঠান গবেষণা করলেও সঠিক কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যাচ্ছে না বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭’তে ‘তথ্যপ্রযুক্তির বাজার গবেষণা : একটি বিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এমন মতামত দেন।

যতদিন পর্যন্ত একটি কমন মানদন্ড দাঁড় না করানো যাবে ততদিন যতোই গবেষণা করা হোক সবারই তথ্যের ভিন্নতা থাকবে বলেও বলেন অংশগ্রহণকারীরা।

সেমিনারে ডাটাবিজ সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ কামাল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি তার প্রবন্ধে দেখান যে, বর্তমানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ইপিবি এবং খাত সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা এই খাতের আয়ের ভিন্নতা দেখাচ্ছেন।

প্রবন্ধে তিনি দেখান, ইপিবির দেওয়া তথ্যে ২০১৩-১৪ সালে এই খাতে আয় ছিল ১২৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ১৩২ দশমিক ৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা ২৫০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর খাত সংশ্লিষ্টরা যে হিসাব দেন তা থেকে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়।

যদি ২০১৮ সাল নাগাদ এক বিলিয়ন ডলার আয় করতে হয় তাহলে সরকারি যে হিসাব সেটার আরো প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আয় তার বেশি বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, গত বছরে বেসিস তার সদস্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটা হিসাব চেয়েছিল তাদের অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি আয়ের। সেখানে দেখা যাচ্ছে ৩৮২টি প্রতিষ্ঠান যে হিসাব দিয়েছে তাতে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতে ৫৯২ মিলিয়ন ডলার আর স্থানীয় বাজারে ২৫ মিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, যদি ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের হিসাব এটা হয় তাহলে বাকি আরও প্রায় ৭০০ প্রতিষ্ঠানের হিসাব আরও বেশি হবে। সেখানেই দেখা যাবে এখনই এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে বলেও জানান।

বেসিসের সাবেক মহাসচিব আতিক-ই রাব্বানি বলেন, আসলে আমাদের মূল সমস্যা হয়েছে ডাটা নেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেটার কোনো কমন ক্যাটাগরি নিশ্চিত করা যায়নি। এই ক্যাটাগরি নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত আয় জানতে হাজার গবেষণা করেও ফলাফল আশা করা সম্ভব হবে না।

দীর্ঘসময় প্রযুক্তিখাতে কাজ করা এই ব্যক্তি বলেন, এখন যে অবস্থা রয়েছে সেখানে বিবিএস, ইপিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেসিস, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেবেই। কারণ সবার মধ্যেই এটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে শুধু ক্যাটাগরিতে সমস্যা থাকার কারণে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন ডাটা সংগ্রহে যাই তখন ডাটার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য যেন পাওয়া যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।

তিনি জানান, কারণ একটা সময় আমরা একশো প্রতিষ্ঠানের ডাটা সংগ্রহ করতাম। এখন সেটা করতে হচ্ছে হাজার-দু’হাজার প্রতিষ্ঠানের।

এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আইসিটি সংশ্লিষ্ট কাজে রয়েছেন জাবেদ আলী সরকার। তিনি বলেন, এই খাতে কেউ কিন্তু কাউকে প্রকৃত তথ্য দিতে চায় না। কারণ এখানে বিভিন্ন বিষয় থাকে। তাই অনেক কিছুই লুকিয়ে রাখতে চায়। তাই নিজ থেকেই করতে হবে এমন কাজ, যেখানে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়।

এছাড়াও বেসিস যেন সফটওয়্যার খাতের সঠিক হিসাব রাখতে পারেন সেজন্য কোনো বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একজোটে কাজ করতে পারে সেদিকে নজর দিতে পরামর্শও দেন অনেকেই।

অনুষ্ঠানে বেসিস সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.