দেশে করোনা পরিস্থিতিতে সদস্যদের জন্য বিসিএস এর পদক্ষেপ

দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিত লকডাউন অবস্থার মধ্যে বিসিএস এর নতুন মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহন করেছে। সারাদেশের ব্যবসা বানিজ্য স্থবিরতার মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো গত ২৫শে মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার শিল্পের সাথে জড়িত ১০ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মচারী। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া কমিটি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো জন্য গ্রহন করেছে নানান কর্মসূচি। সেগুলো নিয়ে সিনিউজের সাথে কথা বলেছেন বিসিএস এর নব নির্বাচিত সভাপতি শাহিদ-উল-মুনীর

প্রশ্ন :   দেশে করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন অবস্থা মোকাবেলায় আপনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পক্ষ থেকে সদস্যদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াধী কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

উত্তর :  এ বিষয়ে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ইমারজেন্সি রেসপন্স কমিটি (ইআরসি) গঠন করা হয়েছে। সেখানে আমরা সদস্য প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য মানবিক ও শারীরিক অসুস্থদের জন্য সহায়তার সিদ্বান্ত গ্রহণ করেছি। সেখানে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা যাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না তারা আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠালে আমরা সে সকল প্রতিষ্ঠানকে নূন্যতম আর্থিক সহায়তা দিবো। এদিকে আমরা একটা হেল্প ডেক্স চালু করেছি যেখানো আমাদের ইসির সদস্যরা কাজ করছেন। আমরা সেন্ট্রাল ডাটাবেজ তৈরীর কাজ করছি সেখানে সারা বাংলাদেশে আমাদের সদস্যদের সমস্যাগুলো লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। আমরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে পারি।

প্রশ্ন :  মূলত হার্ডওয়্যার সেক্টরের ছোট ছোট ব্যবসায়িদের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নিচ্ছেন কি না?

উত্তর : আমরা সারাদেশে সকল কম্পিউটার মার্কেটগুলোর পরিচালনা কমিটির বারাবর বিসিএস এর পক্ষ থেকে চিঠি প্রেরণ করছি। যাতে আমাদের সদস্যদের দোকানের সার্ভিস চার্জ মওকুফ এবং মাসিক ভাড়ার উপর কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়।

প্রশ্ন :   এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে সরকার আপনাদের কোনো সহায়তা মানে ২-৩ শতাংশ হারে ছোট আকারে ঋণ বা এককালীন কোনো সুবিধা দিবেন কিনা?

উত্তর : আমরা গতকাল থেকে আমাদের সদস্যদের প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ সংগ্রহ শুরু করেছে। আশা করছি আজই শেষ হয়ে যাবে। আমাদের সমিতির সদস্যদের ব্যাংকের লেন এর সুদ ৬মাসের জন্য সুদ মুক্ত রাখতে ও কিস্তির (ইএমআই) টাকা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখতে কাজ করছি; যাতে গ্রহকদের ব্যাংক ক্লাসিফাইড না করে সেটাও উল্লেখ থাকবে।

পাশাপাশি আমরা আইসিটি সেক্টরের ৫ সংগঠন বিসিএস, বেসিস, বাক্কো, আইএপি ও ই-ক্যাব নেতারে বৈঠক হয়েছে। আমরা সব সংগঠন যৌথভাবে সরকারের কাছে আবদেন করতে যাচ্ছি যাতে আমাদের সেক্টরের ব্যবসায়িদেরকে ২ শতাংশ হারে সবাইকে ঋণ প্রদান করা হয়।

প্রশ্ন :   বিসিএস এর মোট সদস্য সংখ্যা কত? আর মোট সদস্যের মধ্যে কত শতাংশ বেশী ক্ষতির শিকার হবে বলে আপিন মনে করছেন এমন লকডাউন পরিস্থিতিতে? সারা বাংলাদেশের কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান গুলোতে বন্ধ রয়েছে?

উত্তর : আমাদের ২হাজার ৩শত সদস্য প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজারের বেশী লোক-বল কাজ করছে। এবং ছোট বড় সব প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে আমাদের সকল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে গত সপ্তাহ থেকে।

প্রশ্ন :  সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিস্থিতে কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিচ্ছে বা দিতে পারবে?

উত্তর : কিছু কিছু বতমান মাসেরটা দিলেও আগামী মাস থেকে বেতন ভাতা প্রদান করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই আমার সরকারের কাছে আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মচারীদের জন্য ৬ মাসের বেতন ভাবৎ একটা খোত বরাদ্বের জন্য কাজ শুরু করেছি। আমাদের কি পরিমান বেতন ভাতা আসে সেটার উপর ভিত্তি করেই আমরা সরকারের কাছে যাবো। আগামীকালের মধ্যেই আমাদের হাতে পুরো ডাটাবেজ চলে আসবে। তখন জানাতে পারবো কি পরিমান বেতন ভাতা আমরা সরকারের কাছে চাইবো।

প্রশ্ন :   আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তিতো অনেক এগিয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে একযোগে ভিডিও মিটিং করছেন নিয়মিত, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, পাশাপাশি তিনি মন্ত্রালয়ের কর্মকর্তা ও নির্বাচনী এলাকাও ভিডি মিটিং করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও মিনিমাম কর্মকান্ড ছালিয়ে যাচ্ছেন। তো আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনার হার্ডঅয়্যার সেক্টরে কি ভিডিও বা অনলাইন মিটিং করে দৈনন্দিন কর্মকান্ড সহনশীল রাখার কোনো সুযোগ আছে কি?

উত্তর : আমরা বিসিএস এর ৮টা শাখা অফিসের সাথে ভিডিও কল ও অনলাইন মিটিং করে যাচ্ছি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। দেশের লকডাউন অবস্থার মধ্যে আমরা প্রযুক্তির কল্যানেই এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে সারাদেশের সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারছি।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২এপি/২০

 

Please Share This Post.