‘দেশীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে বড় করা নিয়েই কাজ করবো’

এম আসিফ রহমান। কম্পিউটার প্রোগ্রামার। কাজ করেন ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম নিয়ে। ওয়ার্ডপ্রেসের কন্ট্রিবিউটর সেই ২০০৪ সাল থেকে। অসাধারন সব সল্যুশনগুলো আন্তর্জাতিক মার্কেটে বিক্রি করেন। তবে তিনি একজন ইনভেস্টর এবং সিরিয়াল অন্ট্রাপ্রেনর হিসেবেই বেশি পরিচিত।

২০০১ সাল থেকেই বিভিন্ন প্রোগ্রাম নিয়ে পথ চলা শুরু এই কম্পিউটার প্রোগ্রামারের। বিভিন্ন সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন তিনি। ২০০৪ সালে শুরু করেন এ. আর. কমিনিকেশনস, ১৪ বছর ধরে স্যাফল্লের সাথে ব্যবসা করছে দেশে বিদেশে।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান ওয়ার্ডপ্রেস প্রোডাক্ট কোম্পানি হলো উইডেভস। এই কোম্পানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়ার্ডপ্রেস প্রোডাক্ট কোম্পানিগুলোর একটি। বাণিজ্যিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডের সাফল্যের রেকর্ডও আছে। এই কোম্পানিরও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এম আসিফ রহমান।

আমেরিকার ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তিখাতে অতি পরিচিত মুখ আসিফ প্রযুক্তিখাতে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নানানভাবে অবদান রেখে এ খাতে প্রবৃত্তি অর্জনেও বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তিনি দেশ ও দেশের বাইরে অনেকগুলো সফল টেক স্টার্টআপ এর সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত এবং তাদের কোম্পানি গ্রোথ এ বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন।

এবারের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮–২০২০ নির্বাচনে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা’র ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়েছেন তিনি।

বেসিস নির্বাচন নিয়ে এই সিরিয়াল অন্ট্রাপ্রেনর বলেন, আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের সুযোগ ও সম্ভাবনার ব্যাপকতায় এবারের বেসিস নির্বাচনে সকল সদস্যকে প্রচণ্ড আগ্রহী করে তুলেছে। এবারের নির্বাচন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সদস্যদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এটা আশার দিক।

আসিফ ফেসবুকের প্রথম দিকের (IPO করার আগের) ইনভেস্টর ছিলেন। গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে ইনভেস্ট করছেন। ইনভেস্টমেন্টের এ অভিজ্ঞতাটা তিনি বেসিস মেম্বারদের জন্য কাজে লাগাতে চান।

আসিফ বলেন, আমার বেসিসে কাজের টার্গেট হলো তিনটা বিষয় নিয়ে।

এক হলো- বাংলাদেশের কোম্পানি কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে বড় করা যায় সে জায়গাটা দেখা। আর বাংলাদেশের প্রোডাক্ট আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করার ব্যাপারে বেসিসের সদস্যদের সচেতন করা। কাজ করা বাংলাদেশের প্রোডাক্ট আন্তর্জাতিক বাজারে কীভাবে ব্র্যান্ডিং করা যায়।

দুই, বেসিসের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা যেন প্রাতিষ্ঠানিক ইনভেস্টমেন্ট ও ভিসি ফান্ড পেতে পারেন। এটা একটা বা দুটা কানেকশনে না হয়ে, হবে বেসিসের পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ে। এটা শুধুই দুই বছরের জন্য না। সব সময় যেন এই ধারা চলতে পারে এর জন্য একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করবো।

তিন, বেসিসের স্ট্রাকচারটা এমনভাবে চ্যাইঞ্জ করতে চাই যেন সবার কাছে মনে হয় এটা একটা ফ্রেন্ডলি সংগঠন। বেসিস স্ট্রাকচারটা এমন হওয়া উচিত যাতে সেখানে সকল সদস্য সহজভাবে যেতে পারেন। সবাই এসে যেন নিজের পরিবারের মত করে এক সাথে কাজ করতে পারেন। বেসিস যেন হয়ে উঠে ১১শ মেম্বারের পরিবার। বেসিসের ওয়েবসাইটের আধুনিকায়ন করতে চান তিনি, যেন সদস্যরা সকল সুবিধা অনলাইনে পেতে পারেন।

বেসিসের সদস্যদের উদ্দেশে আসিফ বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরেই বেসিসের স্ট্যান্ডিং কমিটির সাথে কাজ করছি। এখন আমার কোম্পানি ভালভাবে চলছে তাই এখন নির্বাহী পরিষদের মত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাই। ১৪ বছর ধরে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেগুলো বেসিস সদস্যদের জন্য দিতে চাই। একই সাথে আমি মনে করি বেসিস মেম্বারদের একটা সঠিক সময় আসছে যখন তারা উপযুক্ত প্রার্থীকে তাদের মূল্যবান ভোটটা দেবেন। বেসিসের পরিবর্তন আনার জন্য সদস্যরা সঠিক প্রার্থীকে ভোট দেবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।

সিনিউজভয়েস//তুষার/