দেশসেরা ৩০০ শিক্ষক পেলেন এটুআই সম্মাননা

গুণগত শিক্ষা এবং শিক্ষায় উদ্ভাবন’ স্লোগানকে সামনে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এটুআই যৌথভাবে আজ ২৫ এপ্রিল বাংলা একাডেমিতে আয়োজন করেছে শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার ও উদ্ভাবনে মাঠ পর্যায়ের দক্ষ শিক্ষক, প্রশিক্ষক, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা কর্মকর্তাগণদের জাতীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষকদের অবহিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্মেলনে ২ টি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ১ম পর্বের প্যানেল আলোচনায় (আমার গ্রাম-আমার শহর – আমার শিক্ষা) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সম্মেলনের ১ম পর্বে ফিউচার এডুকেশন ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ক একটি বই এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ২য় পর্বের প্যানেল আলোচনায় (ভবিষ্যৎ শিক্ষা-ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার।

ডা. দীপু মনি বলেন, সৃজনশীল পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা একটি পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন পদ্ধতিটি আরো উন্নত করার বিষয়ে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালাতে হবে। শিক্ষা হতে হবে আনন্দের, যেন শিক্ষার্থীরা শিখতে আগ্রহী হয়। মন্ত্রী বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে অনেকেই মনে করছেন অনেক জব লস হবে কিন্তু আমরা মনে করছি এর মাধ্যমে অনেক নতুন জব তৈরির সুযোগও রয়েছে। আমাদের এখন প্রয়োজন সেই জবগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া। তাই ফিউচার এডুকেশন এর মাধ্যমে আমাদের ক্যারিকুলামকেও যুগোপযোগী করে সাজাবো”। তিনি আরো বলেন, সিক্সস ক্যাপ (6CAP) স্কিলস এর প্রতি শিক্ষার্থীদের আরো জোর দিতে হবে। এর ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু শিখবেই না সেগুলো ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগাতে পারাটাই ভবিষ্যত শিক্ষার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়ন এর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে প্রযুক্তির সংযোগ তৈরি করে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিটি স্তরে যুগোপযুগী জ্ঞান অর্জনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীরা যেন মান সম্মত শিক্ষা অর্জন করে কর্ম জীবনে তা কাজে লাগাতে পারে সে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে, যেন একটি প্রতিষ্ঠানও প্রযুক্তির বাইরে না থাকে।

এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর জনাব আনীর চৌধুরী এর সঞ্চালনায় “আমার গ্রাম-আমার শহর – আমার শিক্ষা” বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাননীয় উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী, এম.পি. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ সোহরাব হোসাইন; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক; প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির।

২য় পর্বের প্যানেল আলোচনায় এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর সচিব জনাব এন এম জিয়াউল আলম এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর ডীন প্রফেসর মোস্তফা আজাদ কামাল।

দিনব্যাপী শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়সহ দেশসেরা শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনে আইসিটির ব্যবহার জোরদারকরণের লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরীতে উদ্বুদ্ধ করা। উক্ত সম্মেলন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের মাধ্যমে আনন্দদায়ক ও কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এটুআই আয়োজিত সারাদেশে “মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা” এর মাধ্যমে সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৫ সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছে। শিক্ষক সম্মেলন-২০১৯- এ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং শিক্ষক বাতায়নে নির্বাচিত সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ প্রায় ৩০০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা ২০১৯ জাতীয় পর্যায়ে মনোনীত ৪৫ জনকে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে। সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ প্রায় ১৪৫ জন শিক্ষককে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এর কারিগরি সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারাদেশে প্রায় ৩৫,০০০ এর বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং ১৫,০০০ এর বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সকল শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে অনলাইন প্লাটফর্ম ‘শিক্ষক বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ৩,৫০,০০০-এর অধিক শিক্ষক তাদের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট আপলোড এবং ডাউনলোড করার পাশাপাশি ব্লগ ও কমেন্টের মাধ্যমে তাদের চিন্তাভাবনা ও মতামত বিনিময় করছেন। শিক্ষায় আইসিটি উদ্যোগগুলোকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। ‘শিখুন- যখন যেখানে ইচ্ছে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারদের নিয়ে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বড় ই-লার্নিং প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এটুআই।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে এটুআই এর ই-লার্নিং স্পেশালিস্ট প্রফেসর ফারুক আহমেদ, পলিসি স্পেশালিস্ট (এডুকেশনাল ইনোভেশন) জনাব আফজাল হোসেন সারওয়ার, এডুকেশনাল টেকনোলজি এক্সপার্ট জনাব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলা, এটুআই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২এপি/১৯

Please Share This Post.