তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন ১২ ডিসেম্বর

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ বাংলাদেশের বাঙালি জাতীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেছিলেন। সেটিই ছিল ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী একমাত্র রূপকল্প।

তৃতীয়বারের মতো জাতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।

সেই রূপকল্প নির্বাচনী ইশতেহারের প্রচলিত ধারণাকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল। আমরা আগে দেখতাম, যে দলই ক্ষমতায় এসেছে তারা তাদের ক্ষমতার পাঁচ বছরে কি করবে সেটাই তুলে ধরতো। সেই প্রচলিত ধ্যান ধারণাকে পেছনে ফেলে দিয়ে নতুন ধরেনর এক ইশতেহার ঘোষণা করলেন। রূপকল্পটির নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘রূপকল্প ২০২১’। উনি যেটি তুলে ধরেছিলেন সেটি হচ্ছে, ২১ সাল যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে তখন বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ। যা তিনি তরুণদের উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আমরা কাজ করে চলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন কিভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। কিভাবে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। কিভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় সবধরনের নাগরিক সেবা জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে সেসব নিয়েই কাজ করছি আমরা, বলেন পলক।

‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে উদযাপন হতে যাচ্ছে এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস।ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়  গুজব, নাশকতায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা, পর্নোগ্রাফি, ভুয়া পেইজ, দেশ বিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে তিন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বাংলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরির জন্য ১৬টি টুল তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে বাংলা করপাস বা ভাষাংশ, বাংলা স্পিচ টু টেক্সট এবং টেক্সট টু স্পিচ, স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার, বাংলা মেশিন ট্রান্সলেটর ডেভেলপমেন্ট, সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস টুলস উন্নয়ন, বাংলার জন্য বহুভাষিক সার্ভিস প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন টুল রয়েছে’ জানান পলক।

এগুলোর মাধ্যমে বাংলা শব্দের কি-ওয়ার্ডগুলো দিয়ে সার্চ করে ডেটা অ্যানালিটিকসের মাধ্যমে প্রেডিক্ট করা হবে যে কোন শব্দ কারা কীভাবে ব্যবহার করছে।

ইতোমধ্যে বেশ কিছু টুল তৈরি করা হয়ে গেছে। আসছে জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী স্ক্রিন রিডার টুল উদ্বোধন করবেন বলে আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাকিগুলো টুলগুলো ২০২০-২১ সালের মধ্যে ডেভেলপ করা ফেলা যাবে।

এই ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্প আমরা সবার কাছে বলতে চাই। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের যে সুফলটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই। আর কি ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে সেটাকে তুলে ধরতে চাই। পাশাপাশি এই অর্জন এবং সম্ভাবনাকে কেউ নসাৎ করতে না পারে সেজন্য আমাদের কি ধরনের মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে সেটাও তুলে ধরতে চাই।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

এবারের জাতীয় ডিজিটাল দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ১২ তারিখ সকাল সাতটায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ দিয়ে শুরু হবে দিনের কার্যক্রম। এরপর সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে একটি র‍্যালি বের হবে।

র‍্যালিতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কে এম রহমতুল্লাহ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরও অনেকেই।

দিনটি উপলক্ষে বিকেলে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কনসার্ট, সারা দেশেই র‍্যালির পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একটি শপথ অনুষ্ঠানও হবে।

দিনব্যাপী সেমিনার, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/টেকশহর/১০ডিসে./১৯

Please Share This Post.