তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দেবে সরকার

বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা রফতানিতে নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি রফতানির সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর শীতাংশু কুমার সুর চৌধুরী, আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ, বিসিসি নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এবং বেসিসের সদ্য সাবেক সভাপতি শামীম আহসান বক্তব্য রাখেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে এই খাতে নগদ প্রণোদনা প্রদান, প্রণোদনার অর্থকে শুল্কমুক্ত করা, রফতানি আয় বিষয়ক ব্যাংকের জটিলতা দূরীকরণ, রফতানি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণ জটিলতার বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। তিনি সকল সংকট সমাধান ও নগদ প্রণোদনা প্রদানের জোর দাবি জানান।

সভায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও বেসিসের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনাও পেশ করেন।

মোস্তাফা জব্বার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশের বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব এবং সুফল উপস্থাপন করে নগদ প্রণোদনার দাবির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ ও ডিজিটাল কমার্সকে শুল্কমুক্তের আওতায় আনার দাবি করেন। তিনি ইইএফ ফান্ড চালু করার দাবিও পেশ করেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি রফতানি হিসেবে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এছাড়া সি ফরমে হার্ডওয়্যার ও সেবা খাত অন্তর্ভুক্ত করা এবং জটিলতা কমিয়ে সি ফরমে পরিবর্তন করার দাবিও জানান।

তিনি বলেন, নগদ প্রণোদনা দেওয়া হলে একদিকে যেমন রপ্তানি বাড়বে, তেমনিভাবে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে অর্জিত মুদ্রা বৈধভাবে দেশে আসার পরিমাণও বাড়বে।

শামীম আহসান ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের শুল্ক জটিলতা দূরীকরণের দাবি পেশ করেন।

সভায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে জটিলতা, রপ্তানি আয় দেশে আনার জটিলতা, শুল্ক জটিলতা ইত্যাদি দূর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবিলম্বে ইইএফ ফান্ড চালু করার জন্য অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসঙ্গে তিনি সি ফরমে পরিবর্তন আনারও নীতিগত সিদ্ধান্ত দেন।

অর্থমন্ত্রী নগদ প্রণোদনা প্রদানের বিষয়েও নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি মাইলফলক অগ্রগতি।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.