তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ‘জাতীয় মোবাইল অ্যাপস প্রতিযোগিতা’

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অপরিহার্য যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে, মোবাইল ফোন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মোবাইল নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ১২৯.৫৮ মিলিয়ন। মোবাইল ফোনকে যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি এর বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহারও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছে। সারা বিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে। তার প্রধান কারণ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৩ মিলিয়ন এর বেশি।

‘জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার ২০১৭’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। ১২ এপ্রিল বুধবার, আইসিটি বিভাগের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার ও বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সারা বিশ্বের বিলিয়ন ডলারের মোবাইল অ্যাপ এর বাজারে প্রবেশের জন্য মোবাইলভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উৎসাহ ও সহায়তা দিতে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার ২০১৭’। আইসিটি বিভাগ ও ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার ২০১৭ আয়োজিত হচ্ছে। এতে জাতীয় পুরস্কার বিজয়ীরা ওয়ার্ল্ড সামিট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কারের গ্লোবাল প্রতিযোগিতার জন্য সরাসরি মনোনীত হবেন।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সহযোগী গুগল ডেভেলপার গ্রুপ সোনারগাঁও এবং গুগল ডেভেলপার গ্রুপ বাংলা। দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্মিত সেরা মোবাইল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের প্রাপ্য স্বীকৃতি প্রদানই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মননকে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই, দেশ সেরা মোবাইলভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করছে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার ২০১৭। আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করা যাবে। নিবন্ধন ও মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য http://appaward.ictd.gov.bd এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে।

গত ৩ মার্চ থেকে এই পুরস্কারে অংশগ্রহণের জন্য আহবান জানানো হয়। মূলত নতুন অ্যাপ বিশেষ করে তরুণদের করা ইনোভেটিভ প্রকল্প এতে আশা করা হচ্ছে। যেখান থেকে অন্তত কয়েকটি অ্যাপ যেন বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পায়। গতকাল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, ৮টি ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ২৯৩ টি অ্যাপ জমা পড়েছে।

ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে- এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ স্টাইল, বিজনেস অ্যান্ড কমার্স, মিডিয়া অ্যান্ড নিউজ, ট্যুরিজম অ্যান্ড কালচার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ, ইনক্লুশন অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট, লার্নিং অ্যান্ড এডুকেশন, গর্ভমেন্ট অ্যান্ড পারটিসিপেশন। প্রতিটি ক্যাটাগরি হতে ৩ জন করে মোট ২৪ জন অ্যাপ নির্মাতাকে পুরস্কৃত করা হবে। এসব ক্যাটাগরিতে মোবাইল ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুতকারি কোম্পানি, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে।

জমাকৃত উদ্ভাবনী অ্যাপগুলোর মধ্যে যথেষ্ট বৈচিত্র রয়েছে। এর মধ্যে একটা বড় অংশ আমাদের চারপাশের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছে যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোবাইলভিত্তিক উদ্যোগ, যেমন: এসএমএস ভিত্তিক সেবা, আইভিআর, অ্যাপ্লিকেশন, গেম ইত্যাদি। এখন শুরু হচ্ছে বাছাই প্রক্রিয়া। আগামী ২২ এপ্রিল বাছাই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

পুরস্কার বিতরণের মূল আয়োজন ‘গ্রান্ড অ্যাওয়ার্ড ইভিনিং’ আয়োজন করা হবে আগামী ৪ মে, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। দিনব্যাপী আয়োজনে এক হাজার তরুণ অ্যাপ ডেভেলপার অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেরা অ্যাপকে স্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এই প্ল্যাটফরম থেকে। এর মধ্যে অনুষ্ঠানের দিন দিনব্যাপী থাকবে ন্যাশনাল মোবাইল অ্যাপের সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার। এতে বেশ কিছু আলাদা সেশন থাকবে। টেকনিক্যাল সেশনের পাশাপাশি সফলদের গল্প শোনা, অ্যাপ তৈরিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্ভাবনার জায়গাগুলোও তুলে ধরা হবে। এছাড়া থাকবে মোবাইল অ্যাপ প্রদর্শনী। দেশের সেরা ২০টি অ্যাপ তাদের সেবা নিয়ে উপস্থিত থাকবে। অ্যাপগুলো নতুনদের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা যেমন শেয়ার করবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরাও এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ১ম জাতীয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পুরস্কার বিজয়ী ৮টি দল বিশ্বের ডিজিটাল কনন্টেটের সব থেকে সন্মানজনক স্বীকৃতি ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড মোবাইল পুরস্কারের গ্লোবাল প্রতিযোগিতার জন্য সরাসরি মনোনীত হয়। আন্তর্জাতিক ওই প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রিটিকালিংক মোবাইল অ্যাপ স্বাস্থ্য বিভাগে বিজয়ী হয়। এ বছরও বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত মনোনায়ন যাচাই-বাছাই করবে জুরি বোর্ড। আগামী অক্টোবরে আটটি ক্যাটেগরি থেকে আটজন বিজয়ী নির্বাচন করা হবে এবং মনোনীত করা হবে ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড মোবাইল পুরস্কারের গ্লোবাল প্রতিযোগিতার জন্য ।

ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড মোবাইল পুরস্কার

তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের উন্নয়নে অবদানের জন্য ২০০৩ সাল থেকে অস্ট্রিয়াভিত্তিক এই সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সন্মানসূচক এই অ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে। সন্মানজনক এই অ্যাওয়ার্ডের জুরি বোর্ডে ইতালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, ভারত, অস্ট্রিয়া, বাহারাইন, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, ইজিপ্ট, জার্মানি, বাংলাদেশ, গুয়েতেমালা, কেনিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, কুয়েতসহ বিশ্বের ৫০ দেশের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব জুরিবোর্ডে রয়েছেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক